নিউজ ডেস্ক: মেয়ের নার্সিং পড়ার ফি জোগাড় করতে হন্যে হয়ে ঘুরেছিলেন বাবা। কিন্তু সেই কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খাস বোলপুর স্টেশনে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের শিকার হলেন তিনি। ট্রেনের জেনারেল কামরায় ওঠার সময় ভিড়ের সুযোগ নিয়ে চন্দন রবিদাস নামে ওই ব্যক্তির পকেট থেকে উধাও হয়ে যায় নগদ ৫০ হাজার টাকা। তবে শেষরক্ষা হয়নি, সিসিটিভি ফুটেজ ও জিআরপির তৎপরতায় জালে ধরা পড়েছে মূল অভিযুক্ত।
পাইকর থানার কামারপুর গ্রামের বাসিন্দা চন্দনবাবুর মেয়ে বোলপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং কলেজে পড়ছেন। রেজিস্ট্রেশনের ফি বাবদ এক আত্মীয়ের কাছে গচ্ছিত রাখা ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সোমবার সকালে বোলপুর স্টেশনে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, ট্রেন আসার পর জেনারেল কামরায় ওঠার সময় দুই যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে এবং মুহূর্তের মধ্যে পকেট থেকে টাকা হাতানো হয়। বিষয়টি টের পেয়েই তিনি রেলের আপদকালীন নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং সাঁইথিয়া স্টেশনে নেমে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে রেল পুলিশ স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের গতিবিধি চিহ্নিত করে। সোমবার রাতেই প্রান্তিক স্টেশন এলাকা থেকে হুগলির মগরার বাসিন্দা শ্যামল বৈদ্যকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের দাবি, জেরায় সে চুরির কথা কবুল করেছে।
অসুস্থ চন্দনবাবু কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “বহু কষ্টে মেয়ের পড়াশোনার জন্য টাকা জোগাড় করেছিলাম। বাকি টাকাও যাতে উদ্ধার হয়, প্রশাসনের কাছে সেই আবেদনই জানাচ্ছি।” জিআরপি সূত্রে খবর, এই ছিনতাই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তল্লাশি শুরু করেছেন তদন্তকারীরা।