নিউজ ডেস্ক: ব্যস্ত ভিআইপি রোডে তখন যানবাহনের তীব্র হুড়োহুড়ি। এরই মাঝে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ও রুদ্ধশ্বাস কাণ্ড। ঢাকনা খোলা একটি ম্যানহোলের গর্তে পড়ে সটান মাটির তলায় তলিয়ে গেল আস্ত একটি গোরু। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, উদ্ধারে নেমে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা দেখলেন, যে গর্ত দিয়ে গোরুটি পড়েছিল, সেখানে তার কোনও চিহ্নই নেই! প্রায় আড়াই-তিন ঘণ্টার টানটান নাটকের পর জানা গেল, মাটির নীচের সুড়ঙ্গপথে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় ২০০ ফুট দূরে চলে গিয়েছে অবলা জন্তুটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে হলদিরাম ক্রসিংয়ের এই বেনজির উদ্ধারকার্য দেখতে ভিড় জমে যায় সাধারণ মানুষের।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ। এয়ারপোর্ট থেকে কলকাতামুখী ভিআইপি রোডের ডিভাইডারের ধারে একটি ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, নেশাড়ুরা সুযোগ বুঝে লোহার ঢাকনাটি চুরি করে নেওয়ায় মরণফাঁদ তৈরি হয়েছিল সেখানে। সেই গর্তেই আচমকা পড়ে যায় একটি গোরু। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কৈখালি ট্রাফিক গার্ডের অফিসাররা। দ্রুত তলব করা হয় দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং মেট্রো রেলের আধিকারিকদের।
উদ্ধারকারী দল ম্যানহোলের ভিতরে নামলে শুরু হয় আসল রহস্য। দেখা যায়, গোরুটি সেখানে নেই। শুরু হয় মাটির তলায় তল্লাশি। প্রায় ৬০-৬৫ মিটার অর্থাৎ ২০০ ফুট সুড়ঙ্গপথে হাঁটার পর দেখা মেলে গোরুটির। ম্যানহোলের মুখ ছোট হওয়ায় সেখান দিয়ে গোরুটিকে উপরে তোলা অসম্ভব ছিল। ফলে শেষমেশ চিনারপার্কগামী রাস্তায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একটি বিশালাকায় হাইড্রা মেশিন এনে কংক্রিটের ভারী প্লেট সরানো হয়। গোরুটিকে দাঁড়িয়ে রাখা এবং তার শরীরে চওড়া বেল্ট পরানো ছিল সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবল বাধা ও গুঁতো সহ্য করেও পুলিশ কর্মীরা শেষ পর্যন্ত বেল্টের সাহায্যে কয়েক মণ ওজনের গোরুটিকে উপরে তুলে আনেন। অবলা জন্তুটির প্রাণ বাঁচাতে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের এই মানবিক প্রচেষ্টা দেখে ধন্য ধন্য করছেন পথচারীরা। গোরুটি উদ্ধার হওয়ার পর ফের স্বাভাবিক হয় ভিআইপি রোডের যান চলাচল।