নিউজ ডেস্ক: শিয়রে ভোট, তার ওপর দহনজ্বালা— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। ব্লাড ব্যাংকের ভাঁড়ার কার্যত ‘শূন্য’। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, আপৎকালীন প্রয়োজনে রক্ত পেতে গেলে আগেভাগে পাঁচজন করে ‘ডোনার’ বা দাতা আনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুরা। সময়মতো রক্ত না মেলায় তাদের জীবন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ব্লাড ব্যাংক সূত্রে খবর, যেখানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৫০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়, সেখানে গোটা মাসে সংগ্রহ হচ্ছে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট। অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে এলাকায় সেভাবে কোনও রক্তদান শিবির আয়োজন করা হয়নি। এমনকি নেগেটিভ গ্রুপের কোনও রক্তই বর্তমানে মজুত নেই। এই চরম সংকটে প্রসূতিদের পরিবারের উদ্দেশে বার্তা দেওয়া হয়েছে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে এমন আশঙ্কায় আগেভাগেই যেন পাঁচজন রক্তদাতার নাম ও ফোন নম্বর আশাকর্মীদের কাছে জমা রাখা হয়।
মেডিকেলের সুপার ডাঃ কল্যাণ খাঁ এবং ব্লাড ব্যাংক ইনচার্জ ডাঃ অনিন্দ্যপ্রকাশ ঘোষ উভয়েই এই সংকটের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, একটি শিবির থেকে যেখানে আগে ৮০-৯০ ইউনিট রক্ত মিলত, এখন তা ২০-৩০ ইউনিটে ঠেকেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী ও পড়ুয়াদের কাছে রক্তদানের আবেদন জানানো হচ্ছে। এমনকি ব্লাড ব্যাংকের ভেতরেই ‘মাইক্রো ক্যাম্প’ করে রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশুর বাবার হাহাকার শুনে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রীতম বসু নিজে রক্ত দিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও, জেলাজুড়ে রক্তের এই আকাল কবে কাটবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলাবাসী।