নিউজ ডেস্ক: রঙের উৎসবের যাবতীয় আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল স্বজন হারানোর আর্তনাদে। দোলের দিন গঙ্গার দুই পাড়ে— ভাটপাড়া ও বলাগড়ে— অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দুই ঘটনায় মোট ছ’জন গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত একজনেরও খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনায় দুই এলাকাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ভাটপাড়া বলরাম সরকার গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন জগদ্দল বিধানসভা এলাকার মাদ্রাল গভর্নমেন্ট কলোনির বাসিন্দা দুই ভাই সৈকত নন্দী (৩২) ও সৌরভ নন্দী (২৭) এবং তাঁদের সম্পর্কিত বোন দীপশিখা দাস রজক। রং খেলার পর ‘পুকুরে স্নান করতে যাচ্ছি’ বলে তাঁরা গঙ্গার ঘাটে চলে আসেন। অভিযোগ, দীপশিখা প্রথমে ঘাটে নামেন এবং পা পিছলে জলে পড়ে যান। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে দুই ভাইও স্রোতে ভেসে যান। তিনজনকে হাবুডুবু খেতে দেখে তাঁদের বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা একাদশ শ্রেণির ছাত্র সৌরভ সরকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনিও আর ফিরে আসেননি। বুধবার দিনভর ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ (ডিএমজি), কলকাতা পুলিশ এবং এনডিআরএফ-এর একাধিক টিম গঙ্গায় তল্লাশি চালালেও কারও হদিশ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের পরিবারে এখন শুধুই কান্নার রোল। কিছুদিন আগেই দুই ভাইয়ের বিয়ে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার দুপুরেই বলাগড়ের ডুমুরদহে একটি ডিঙি নৌকায় পাঁচ বন্ধু গঙ্গাবক্ষে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সময় জোয়ারের ধাক্কায় নৌকাটি উলটে যায়। পাঁচজনের মধ্যে তিনজন সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেও, সাঁতার না জানা সায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় (২৩) এবং শুভজিৎ মণ্ডল (২১) তলিয়ে যান। ডিএমজি-র টিম ও ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি চললেও তাঁদেরও কোনও খোঁজ মেলেনি। স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ রায় বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁরা সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা স্তব্ধ। বিধানসভা ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।