নিউজ ডেস্ক: আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের রণকৌশলে ফের একবার মাস্টারস্ট্রোক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতে ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে যেমন রয়েছে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ছোঁয়া, তেমনই আছে বিনোদন জগত ও আইনি দুনিয়ার বিশিষ্ট নক্ষত্রদের উপস্থিতি। রাজ্য পুলিশের সদ্যপ্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার থেকে শুরু করে গায়ক-মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং টলিউড কুইন কোয়েল মল্লিক— তৃণমূলের তালিকায় একের পর এক চমক।
গত মেয়াদে সামিরুল ইসলাম বা প্রকাশ চিক বরাইকের মতো অখ্যাত মুখদের রাজ্যসভায় পাঠিয়ে চমকে দিয়েছিলেন মমতা। এবারও সেই ধারাই বজায় থাকল। তবে এবার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতা ও সামাজিক পরিচিতিকে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীকে প্রার্থী করা রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সমকামী অধিকার আন্দোলনে মানেকার লড়াই সর্বজনবিদিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানেকাকে সংসদ পাঠানোর সিদ্ধান্ত আদতে লিঙ্গসাম্য ও আধুনিক মননশীলতারই বার্তা।
অন্যদিকে, রাজীব কুমারের মনোনয়ন নিয়ে জল্পনা ছিল আগে থেকেই। সম্প্রতি বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অভিষেকের সম্ভাবনা দানা বাঁধছিল। সুকান্ত লোকসভার সাংসদ, রাজীব যাচ্ছেন উচ্চকক্ষে— ফলে দিল্লির দরবারে লড়াই যে ‘সেয়ানে-সেয়ানে’ হবে, তা বলাই বাহুল্য। বাবুল সুপ্রিয়ের ক্ষেত্রেও সমীকরণটি আকর্ষণীয়। সঙ্গীতচর্চায় সময় দিতে চাওয়া বাবুলকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত পছন্দ— দুই-ই রক্ষা করলেন নেত্রী। আর কোয়েল মল্লিকের মনোনয়ন টিনসেল টাউনের প্রতি মমতার আস্থার আরও এক প্রমাণ।
আগামী ১৬ মার্চ রাজ্যের পাঁচটি আসনে ভোটগ্রহণ। বিধায়ক সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের চারটি আসনে জয় নিশ্চিত। সুব্রত বক্সী, মৌসম নূরদের জায়গায় এবার নতুন মুখেরা সংসদের উচ্চকক্ষে বাংলার হয়ে সওয়াল করবেন।