ঘরে ফেরার পর তাঁদের বয়ান শুনে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে পুলিশ আধিকারিকদেরও। কোচবিহারের ঘুঘুমারির আল আমিন মিশন থেকে নিখোঁজ হওয়া দুই নাবালক ছাত্রের মূল লক্ষ্য ছিল আদতে ‘বিদেশে’ পাড়ি দেওয়া। মঙ্গলবার কোচবিহারে ফিরে এসে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দশম শ্রেণির ওই দুই পড়ুয়া জানিয়েছে, পড়াশোনার চাপ আর পরিবারের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা থেকে মুক্তি পেতেই তারা মুম্বই হয়ে বিদেশে যাওয়ার ছক কষেছিল।
কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই ছাত্রের দাবি অনুযায়ী, পড়াশোনা তাদের বিশেষ ভালো লাগত না। তাই তারা স্থির করেছিল, প্রথমে মুম্বই গিয়ে বছর পাঁচেক কাজ করে মোটা টাকা জমাবে। সেই পুঁজি সম্বল করেই ভারত ছেড়ে অন্য কোনও দেশে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে ঠিক কোন দেশে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি তারা। ছাত্রদের এমন ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ পলায়ন দেখে বিস্মিত তদন্তকারীরা।
গত সপ্তাহের মঙ্গলবার মিশন থেকে নিখোঁজ হয় এই দুই পড়ুয়া। শোরগোল পড়ে যায় জেলা জুড়ে। পরে জানা যায়, লোকমান্য তিলক এক্সপ্রেসের সংরক্ষিত কামরায় চেপে তারা মুম্বই যাচ্ছে। কোতোয়ালি থানার পুলিশ দ্রুত রেল পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মানসার স্টেশনে তাদের উদ্ধার করা হয়। এরপর শুক্রবার কোচবিহার পুলিশের একটি দল বিমানে মুম্বই গিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনে। মঙ্গলবার রাতে বিমানে বাগডোগরা হয়ে সড়কপথে কোচবিহারে পৌঁছায় দলটি। আপাতত সরকারি নিয়ম মেনে বুধবার সকালে ছাত্রদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার আইসি। মিশনের প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদও পুলিশের সঙ্গে মুম্বই গিয়েছিলেন। দুই কিশোরের এই অদ্ভুত পলায়ন রহস্য এখন কোচবিহারের চর্চার কেন্দ্রে।