নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের লালবাগ সদরঘাটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকলেন নিত্যযাত্রীরা। ভাগীরথী নদী পারাপারের জন্য একটি চারচাকা গাড়ি ভেসেলে ওঠার সময় আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হুড়মুড়িয়ে জল ঢুকতে শুরু করে গাড়ির ভেতরে। ঘাটে উপস্থিত মাঝিদের তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন গাড়ির চালক তথা মালিক প্রকাশ সর্দার। পরবর্তীতে একটি ক্রেন এনে গাড়িটিকে নদী থেকে তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদরঘাট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশবাবু নিজের গাড়িতে একাই ছিলেন। লালবাগ সদরঘাট থেকে পশ্চিমপাড়ে যাওয়ার জন্য তিনি গাড়িটি চালিয়ে ভেসেলের র্যাম্পে উঠছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভেসেলে ওঠার মুখেই গাড়িটি যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং সোজাসুজি নদীতে গিয়ে পড়ে। বিপদ বুঝে কালক্ষেপ না করে স্থানীয় মাঝিরা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁরা গাড়ির দরজা খুলে চালককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এরপর গাড়িটিকে দড়ি দিয়ে ভেসেলের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়, যাতে তা স্রোতে ভেসে না যায়।
এই দুর্ঘটনার পর ঘাট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, ছোট গাড়ি পারাপারের জন্য নির্দিষ্ট স্টিমার পরিষেবা থাকলেও, ঘাট কর্মীরা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভেসেলের র্যাম্প দিয়ে মানুষের ভিড়ের মাঝেই চারচাকা গাড়ি তোলেন। যদিও ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই চালককে স্টিমারে ওঠার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি জোর করেই ভেসেলে উঠতে যান। উল্লেখ্য, এর আগেও লালবাগ সদরঘাটে জোড়া নৌকায় গাড়ি তুলতে গিয়ে ২০২১ এবং ২০২৩ সালে একাধিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বছরখানেক আগে স্টিমার পরিষেবা চালু হলেও, ফের এই ধরনের ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।