নিউজ ডেস্ক: সাংসারিক বিবাদ মেটাতে বসেছিলেন সকলে। কিন্তু সেই আলোচনার আসরই যে রণক্ষেত্রে পরিণত হবে, তা কেউ আঁচ করতে পারেননি। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার আমতলা সুপার মার্কেটের দোতলায় ঘটে গেল এক রক্তারক্তি কাণ্ড। নিজের স্ত্রী, শাশুড়ি এবং শাশুড়ির প্রেমিককে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল হারুলাল ঘোষ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গুরুতর জখম অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বৈশাখী ঘোষ, লিপিকা প্রধান এবং পেশায় আইনজীবী উদয়শঙ্কর অধিকারী। অভিযুক্ত হারুলালকে রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হারুলাল ও তাঁর স্ত্রী বৈশাখীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল। হারুলালের অভিযোগ, তাঁর মায়ের সঙ্গে বৈশাখী অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করতেন এবং এই কাজে তাঁকে ইন্ধন দিতেন তাঁর শাশুড়ি লিপিকাদেবী। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই শুক্রবার রাতে লিপিকাদেবীর প্রেমিক উদয়শঙ্করবাবুর চেম্বারে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। আলোচনার মাঝপথেই মেজাজ হারিয়ে আচমকা একটি ধারালো ছুরি বের করে তিনজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন হারুলাল। তাঁর এলোপাতাড়ি কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্ত্রী ও শাশুড়ি-সহ ওই আইনজীবী।

আক্রান্তদের চিৎকার শুনে বাজারের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা সেখানে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় বিষ্ণুপুর থানায়। রক্তাক্ত তিনজনকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পরেই এলাকা থেকে চম্পট দিয়েছিলেন হারুলাল। তবে পুলিশি তৎপরতায় খুব বেশি সময় গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেননি তিনি। রাতেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। পারিবারিক অশান্তি নাকি এর পিছনে অন্য কোনও আক্রোশ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ভরা বাজারে এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Share on Social Media