উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আর কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নয়াদিল্লি। শিলিগুড়ি করিডর বা পরিচিত ‘চিকেন’স নেক’-এর ভৌগোলিক স্পর্শকাতরতা বিচার করে এ বার সেখানে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণের মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করল কেন্দ্র। মূলত চিনের নজরদারি এড়ানো এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেনার গতিবিধি অবাধ রাখতেই এই সুড়ঙ্গ পথ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিলিগুড়ির এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি একদিকে বাংলাদেশ এবং অন্যদিকে ভুটান, নেপাল ও চিনের সীমান্ত ঘেরা। ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ এবং সিকিমের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র যোগসূত্র এই করিডরটি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা শত্রুদেশের অতর্কিত হামলায় এই পথ কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সেই ‘ডেডলক’ কাটাতে মাটির প্রায় ২০ থেকে ২৪ মিটার নীচে দিয়ে ছুটবে ট্রেন। এর ফলে তৈরি হবে একটি মজবুত ‘মাল্টি-লেয়ার রেল নেটওয়ার্ক’।
মাটির গভীর দিয়ে ট্রেন চলাচল করলে ড্রোন বা স্যাটেলাইটের নজরদারি এড়ানো যেমন সহজ হবে, তেমনই জরুরি অবস্থায় সেনা, ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং রসদ পৌঁছে দেওয়ার পথও হবে নিষ্কণ্টক। উপরিভাগের সাধারণ রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভূগর্ভস্থ এই বিকল্প পথ যোগাযোগ সচল রাখবে। এই প্রসঙ্গে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, ‘চিকেন’স নেক’ নিয়ে আর উদ্বেগের কারণ নেই। দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ একটি ইতিবাচক ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।