নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ের এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন বাগদার বয়রা পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য সনাতন দাস। ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি এক কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন— যতদিন না রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে, ততদিন তিনি মাথার চুল কাটবেন না। দীর্ঘ দেড় দশক পর সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করে অবশেষে বুধবার জনসমক্ষে চুল কাটলেন তিনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিজ্ঞা: পেশায় কৃষক সনাতন দাস ২০১১ সাল থেকেই ভারতীয় জনতা পার্টির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে তিনি বয়রা পঞ্চায়েতের মালিদা গ্রামের নির্বাচিত সদস্য। সনাতনবাবুর দাবি, ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের ওপর যে অত্যাচার তিনি চাক্ষুষ করেছিলেন, তার প্রতিবাদেই তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল রাজ্যে বিজেপি শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
জনসমক্ষে কেশদান: রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই সনাতন দাস তাঁর চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন। বুধবার পঞ্চায়েত অফিসের সামনে দলীয় কর্মীদের সাক্ষী রেখে ঘটা করে চুল কাটেন তিনি। ১৫ বছর ধরে বড় হওয়া জট পাকানো চুল কেটে তিনি তাঁর সংকল্প সম্পন্ন করেন।
চুল কাটার পর আবেগপ্লুত সনাতন দাস বলেন, “মমতা সরকার চলে গিয়েছে, তাই আজ আমি চুল কাটলাম। আমি সততার সঙ্গে রাজনীতি করি এবং বিজেপির প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা থেকেই এই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম”। তাঁর এই দীর্ঘ সংকল্পের কাহিনী বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।