কেন্দ্রের ‘বিতর্কিত’ চার শ্রম কোড প্রত্যাহার এবং ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি-র আইনি গ্যারান্টি— এই দুই প্রধান দাবিতে আজ, বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১০টি সর্বভারতীয় শ্রমিক সংগঠন এবং সংযুক্ত কিষান মোর্চা। দিল্লিতে সংসদের বাজেট অধিবেশন চলার মাঝেই এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লি-হরিয়ানার সীমানাগুলিতে কড়া নজরদারি ও ব্যারিকেড বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
এদিকে, এই ধর্মঘট নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে বিভাজনও স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার রাতে টিইউসিসি-র সাধারণ সম্পাদক এসপি তিওয়ারি সাফ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধর্মঘটে তাঁরা শামিল হচ্ছেন না। তবে বাম ও কংগ্রেস সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলি এই লড়াইকে সর্বাত্মক করার ডাক দিয়েছে। দিল্লিতে কৃষকদের অবস্থান ও আন্দোলন এই ধর্মঘটে নয়া মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে ধর্মঘটের প্রভাব রুখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে নবান্ন। রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে ইতিমধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গুরুতর অসুস্থতা বা নির্দিষ্ট কিছু কারণ ছাড়া আজ অফিসে অনুপস্থিত থাকলে ওই কর্মীর একদিনের বেতন কাটা যাবে এবং কর্মজীবন থেকে একটি দিন বাদ পড়বে (‘ডাইস নন’)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত ও পুরসভার মতো সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাতেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। নবান্নের এই সার্কুলারকে ‘অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আন্দোলনকারী শ্রমিক সংগঠনগুলি।