নিউজ ডেস্ক: জাল ইনভয়েস তৈরি করে কোটি কোটি টাকার জিএসটি (GST) ফাঁকির কারবারে বড়সড় সাফল্য পেল হলদিয়া কমিশনারেটের সেন্ট্রাল গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স বিভাগ। ভুয়া কাগুজে কোম্পানি বা ‘শেল’ কোম্পানি তৈরির মূল কারিগর দীপক চণ্ডককে গ্রেপ্তার করেছেন আধিকারিকরা। সোমবার দীর্ঘ জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ধৃত দীপক চণ্ডক মূলত গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের নথিপত্র হাতিয়ে নিয়ে কলকাতায় আস্ত আস্ত কোম্পানি খুলে এই জালিয়াতি চক্র চালাতেন বলে অভিযোগ।
সাধারণ মানুষের নথি ও জাল ডিরেক্টর:
তদন্তে নেমে জিএসটি আধিকারিকরা এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির হদিশ পেয়েছেন। দীপকের এই কারবারের পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত ধূর্ত:
-
নথি সংগ্রহ: একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় রয়েছে যারা গ্রামের গরিব মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। এই অছিলায় তাদের আধার, প্যান এবং ভোটার কার্ড (EPIC) সংগ্রহ করা হয়।
-
বেনামি কোম্পানি: সেইসব নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজান্তেই তাঁদের কোম্পানির ‘ডিরেক্টর’ বানিয়ে দেওয়া হত। অথচ যাঁদের নামে কোম্পানি চলছে, তাঁরা টেরই পেতেন না যে তাঁরা কোটিপতি ব্যবসায়ী হিসেবে কাগজে-কলমে নথিভুক্ত!
-
ব্যাংক যোগসাজশ: অভিযোগ, দীপকের সঙ্গে বেশ কিছু ব্যাংক অফিসারের যোগসাজশ ছিল। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সই জাল করে অনায়াসেই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হত।
কোটি কোটি টাকার ভুয়ো লেনদেন:
হলদিয়া কমিশনারেটের অফিসাররা জানিয়েছেন, এর আগে জাল ইনভয়েস বিক্রির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে জেরা করেই দীপকের নাম সামনে আসে। মূলত কাগজে-কলমে কেনাবেচা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের লক্ষ্য। কলকাতার একাধিক ঠিকানায় এই ধরণের কয়েক ডজন ‘কাগুজে কোম্পানি’র হদিশ মিলেছে।
সোমবার দীপককে ডেকে পাঠিয়ে তাঁর কাছে এই বিপুল পরিমাণ নথির উৎস জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে জেরার মুখে তিনি স্বীকার করে নেন যে, সংগৃহীত নথির বিনিময়ে কোম্পানি সাজিয়ে জাল ইনভয়েস বিক্রিতে তিনি সাহায্য করতেন।
এই চক্রের শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত এবং কোন কোন ব্যাংক আধিকারিক এই সই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে জিএসটি দপ্তর। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানানো হয়েছে, সরকারি প্রকল্পের নাম করে কেউ পরিচয়পত্র বা বায়োমেট্রিক তথ্য চাইলে তা দেওয়ার আগে অবশ্যই সত্যতা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।