নিউজ ডেস্ক: খাস কলকাতায় খোদ পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেই উঠল কর্তব্যরত মহিলা কর্মীকে যৌন হেনস্তা করার গুরুতর অভিযোগ। কাঠগড়ায় যাদবপুর থানার ওসি অমিতাভ চক্রবর্তী। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রবিবারই তাঁকে তড়িঘড়ি বদলি করে দিয়েছে লালবাজার। বিধানসভা ভোটের মুখে কলকাতার একটি থানার শীর্ষ আধিকারিককে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, দিন তিনেক আগে নাইট রাউন্ডে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ওসি ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ারকে তাঁর সরকারি গাড়িতে ওঠার নির্দেশ দেন। অভিযোগ, এরপর তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি পানশালায় নিয়ে গিয়ে মদ্যপানের জন্য জোর করা হয়। মহিলা রাজি না হওয়ায় তাঁকে গাড়ির মধ্যেই যৌন হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই মহিলা সিভিক প্রথমে থানার সহকর্মীদের ফোন করলেও বিশেষ সাহায্য পাননি। শেষমেশ উপায়ান্তর না দেখে পুলিশের ‘১০০ ডায়েলে’ ফোন করে লালবাজার কন্ট্রোল রুমের সাহায্য চান তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই তৎপর হন দক্ষিণ শহরতলি বিভাগের ডিসি চারু শর্মা। নির্যাতিতা মহিলার সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি থানার অন্যান্য মহিলা পুলিশকর্মীদের থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই সুপ্রিম কোর্টের ‘বিশাখা গাইডলাইন’ মেনে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি (ICC) গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্ত ওসিকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার যাদবপুর থানার নতুন ওসির দায়িত্ব নিয়েছেন সুব্রত সরকার।
আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তার ঠিক আগেই শহরের নারী নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ‘পিঙ্ক বুথ’ বা ‘শাইনিং’ টহলদারি ভ্যানের মতো একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে কলকাতা পুলিশ। সেই উৎসবের আবহেই খোদ ওসির বিরুদ্ধে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ বাহিনীর ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ডিসি চারু শর্মা জানিয়েছেন, ইন্টারনাল কমপ্লেন্ট কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।