নিউজ ডেস্ক: চুরির উদ্দেশ্য নিয়ে ঢুকেও মেলেনি সোনা বা মোটা অঙ্কের নগদ। আর সেই আক্রোশ থেকেই গোটা বাড়ি গুটখার পিকে ভরিয়ে দিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা! ফেলে রেখে গেল নেশার সামগ্রীর খালি প্যাকেটও। রবিবার গভীর রাতে মধ্যমগ্রাম পুরসভার উত্তর বীরেশপল্লি এলাকায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বাড়িতে এই নজিরবিহীন চুরির ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার বিবরণ: মধ্যমগ্রামের ওই বাড়ির মালকিন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা হিন্দোলা মুখোপাধ্যায় বর্তমানে বারাসতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। মধ্যমগ্রামের পৈতৃক বাড়িতে মাঝেমধ্যে এসে তিনি দেখাশোনা করেন। সম্প্রতি বাড়িটিতে রঙের কাজ চলছিল। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা চাবি দিয়ে নীচতলার গেট খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে এবং দোতলার ঘরের তালা ভেঙে তছনছ চালায়। শোকেস ও আলমারি ঘেঁটে সোনা বা নগদের খোঁজ না পেয়ে দুষ্কৃতীরা ক্ষোভে সারা ঘরে গুটখার পিক ফেলে নোংরা করে দেয়।
কী কী খোয়া গেল? নগদ টাকা না পেলেও বাড়ি থেকে প্রচুর কাঁসা-পিতলের বাসনপত্র এবং একটি গ্যাসের ওভেন নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোরেরা। সোমবার সকালে বাড়িতে পৌঁছে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন হিন্দোলাদেবী। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “বাবা-মায়ের দেওয়া স্মৃতির বাসনগুলো নিয়ে ওরা পালিয়েছে। সারা ঘর গুটখার পিকে ভরিয়ে নোংরা করে দিয়ে গিয়েছে।”
রঙের মিস্ত্রিদের দিকে সন্দেহের তির: গৃহকর্ত্রীর দাবি, নীচতলার গেটের তালা ভাঙা হয়নি, অথচ দোতলার তালা ভাঙা ছিল। যেহেতু নীচের গেটের একটি চাবি রঙের মিস্ত্রিদের কাছেই ছিল, তাই এই ঘটনার নেপথ্যে তাঁদের কোনও যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। খবর পেয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। রঙের মিস্ত্রিদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।