নিউজ ডেস্ক: ভোটযুদ্ধ শেষ, এখন ফলের অপেক্ষা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণী ইভিএম ও ভিভিপ্যাটগুলি ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছে গিয়েছে নির্দিষ্ট স্ট্রং রুমে। বারাসত থেকে বিধাননগর— গোটা জেলা জুড়ে এখন স্ট্রং রুম পাহারা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ৪ জুন ভোটগণনা না হওয়া পর্যন্ত যেন নিরাপত্তার বিন্দুমাত্র চ্যুতি না ঘটে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এবার ভোটগণনার জন্য মোট পাঁচটি কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে— বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাট, বিধাননগর এবং বারাকপুর। প্রতিটি কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। স্ট্রং রুমের গেটগুলিতে বিশেষ গালা দিয়ে সিল করা হয়েছে, যা নিয়মিত পরীক্ষা করছেন সেক্টর অফিসার ও জওয়ানরা। এছাড়াও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রার্থীরা ও তাঁদের পোলিং এজেন্টরা যাতে সিসিটিভি মনিটরিং ইউনিটে বসে সরাসরি স্ট্রং রুমের পরিস্থিতি দেখতে পারেন, তারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বারাসত সদর শহরে সরকারি কলেজ ও স্কুলে হাবড়া, অশোকনগর, দেগঙ্গা, মধ্যমগ্রাম ও আমডাঙার ইভিএমগুলি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বসিরহাটের সাতটি আসনের গণনা হবে বসিরহাট পলিটেকনিক কলেজে এবং বনগাঁর চারটি কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত হয়েছে বনগাঁ দীনবন্ধু কলেজ। গণনাকেন্দ্রের মূল ফটক থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গণনার দিন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন ‘মাইক্রো অবজারভার’রা। তাঁদের উপস্থিতিতেই পোস্টাল ব্যালট এবং ইভিএমের স্ক্রুটিনি সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা বরাবরই শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত বিধানসভা নির্বাচনেও এই জেলার ফলাফল ছিল অত্যন্ত চর্চিত। এবার সেই গড় অক্ষত থাকে নাকি সমীকরণ বদলে যায়, এখন তা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক কাটাছেঁড়া।