নিউজ ডেস্ক: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল নিশ্চিত হতেই এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী থাকছে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, হাবড়া, অশোকনগর ও মধ্যমগ্রামের মতো এলাকাগুলি। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে সমস্ত অটো, টোটো এবং হকার্স ইউনিয়নে ঘাসফুল শিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সোমবার দুপুরের পর থেকেই সেখানে রাতারাতি বদলে গিয়েছে পতাকার রং। নীল-সাদা ব্যানার সরিয়ে হকার্স কর্নার থেকে শুরু করে অটো স্ট্যান্ড— সর্বত্রই এখন দেখা যাচ্ছে গেরুয়া ঝান্ডা ও বিজেপির প্রতীক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দ্রুত ‘রং বদল’-এর নেপথ্যে কাজ করছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। বারাসত ও হাবড়ার অটো-টোটো চালকদের একাংশের অভিযোগ, এতদিন ইউনিয়নের নামে তাঁদের ওপর ব্যাপক ‘তোলাবাজি’ চলত। স্ট্যান্ডে গাড়ি রাখা, নতুন রুট পারমিট বা নতুন গাড়ি নামানোর ক্ষেত্রে শাসক দলের ইউনিয়নকে মোটা টাকা গুনতে হতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টোটো চালক বলেন, “পেটের দায়ে এতকাল মুখ বুজে সব সহ্য করেছি। কিন্তু এবার সময় এসেছে। আমরা চাই তোলাবাজি মুক্ত সুস্থ কর্মপরিবেশ।”
একই চিত্র ধরা পড়েছে হকার্স ইউনিয়নগুলোতেও। হাবড়া ও অশোকনগর বাজারে বসার জায়গা নিশ্চিত করতে হকারদের থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফল ঘোষণা হতেই সেই ক্ষোভ আছড়ে পড়েছে রাজপথে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই চালকদের অনেককে গেরুয়া উত্তরীয় পরে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। মধ্যমগ্রাম ও দেগঙ্গায় হকার্স ইউনিয়নের অফিসগুলোতেও রাতারাতি বিজেপির পতাকা লাগানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং তৃণমূল স্তরে জমে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহের প্রতিফলন। অটো বা টোটো চালকরা সরাসরি প্রতিদিন হাজার হাজার সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসেন, তাই এই স্তরে বিজেপির দ্রুত প্রভাব বিস্তার আগামী দিনে জনমত গঠনে শাসক দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বর্তমানে এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।