নিউজ ডেস্ক: বেহালা থেকে ধৃত ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের হদিস পেয়ে রীতিমতো তাজ্জব এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) গোয়েন্দারা। সোমবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করা হলে বিচারক আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত জয়কে ইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২৫টি ভুয়ো বা ‘শেল’ কোম্পানির সন্ধান মিলেছে। কেবল আর্থিক তছরুপই নয়, দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর সঙ্গে জয়ের গভীর যোগসাজশ এবং বেআইনি অস্ত্র কেনাবেচার অভিযোগ সামনে আসায় এই তদন্তে নতুন মোড় ঘুরেছে।
ইডি সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি, গত চার মাসেই জয়ের কোম্পানির অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থের উৎস কী, তা নিয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর কোম্পানির সঙ্গে জয়ের অন্তত ১.৫ কোটি টাকার সরাসরি লেনদেন হয়েছে। আরও ভয়াবহ তথ্য হল, জয়ের সংস্থা থেকেই সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কেনা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। রবিবার সকালে বেহালার জ্যোতিষ রায় রোডের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশির পর জয়ের ঘর থেকে প্রায় এক কোটি নগদ টাকা উদ্ধার হয়। এর পরই তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ জেরা করা হয় এবং বয়ানে অসংগতি মেলায় শেষমেশ গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, জয়ের এই ২৫টি ভুয়ো সংস্থা মূলত কালো টাকা সাদা করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রভাবশালী নেতা বা দুষ্কৃতীদের টাকা বিভিন্ন হাত ঘুরে বিদেশের অ্যাকাউন্টে বা অন্য ব্যবসায় খাটানো হতো কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জয়ের কল লিস্ট এবং ইমেল ঘেঁটে সোনা পাপ্পু ছাড়া আর কোনও ‘বড় মাথা’র যোগ রয়েছে কি না, সে দিকেই নজর এখন ইডি-র দুঁদে অফিসারদের।