নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সালের ১৩ মে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, পনেরো বছর পর ২০২৬-এর মে মাসে সেই চক্র পূর্ণ হলো। বাংলায় দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম অপশাসনের পতনের দেড় দশক পর এবার পতন হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের। সোমবার ফল ঘোষণা হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় প্রথমবার সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ— সর্বত্রই এখন ‘পদ্ম’ময়। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়কে ‘নতুন সূর্যোদয়’ বলে অভিহিত করেছেন।
এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বিরল নজির গড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১-এর পর ২০২৬-এও তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার তিনি নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দুই কেন্দ্রেই মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু প্রমাণ করলেন, কেন তিনি আজ বাংলার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেনস্তা ও অনিয়মের অভিযোগ তুললেও পরিসংখ্যান বলছে, শুভেন্দুর কাছেই ফের হার মানতে হয়েছে তাঁকে। এই জয়ের পর বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তথা পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বড় অংশের নাম বাদ পড়া এবং মেরুকরণের ভোটে হিন্দু ভোটব্যাংকের সংহতি। দ্বিতীয়ত, বাম সমর্থকদের বড় অংশ এবার সরাসরি ‘রাম’ শিবিরে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূলের ৭৫টিরও বেশি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল এবং টিকিট না পাওয়া বিক্ষুব্ধ বিদায়ী বিধায়কদের অন্তর্ঘাত জোড়াফুল শিবিরের পতনের অন্যতম কারণ। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের রণকৌশল ও বুথ স্তরের সংগঠন এই জয়ে অনুঘটকের কাজ করেছে।
আগামী বুধবার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের পর রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫ বৈশাখ (কবিপ্রণাম দিবসে) বাংলায় প্রথম বিজেপি মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেই মেগা অনুষ্ঠানে মোদি ও শাহের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর একঝাঁক মুখ্যমন্ত্রী। শমীক ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে এবং দিলীপ ঘোষ, সজল ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পলদের মতো জয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে এক নতুন যুগের অপেক্ষায় বাংলা।