নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২৮ বছরের আইনি লড়াই আর যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে ২০০৯ সালে তাঁরা হাতে পেয়েছিলেন ভোটাধিকার। কিন্তু ১৭ বছর যেতে না যেতেই ফের ঘনিয়ে এল আশঙ্কার মেঘ। কল্যাণী বিধানসভার চর মধুসূদনপুর এলাকার ৩৭১ জন বাসিন্দার নাম সম্প্রতি এসআইআর (SIR)-এর জেরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
কল্যাণী বিধানসভার ১১৩ নম্বর বুথের অন্তর্গত এই এলাকায় মোট ১০১৩ জন ভোটারের মধ্যে ৩৭১ জনের নাম বাদ গিয়েছে এবং আরও ২৫১ জনের নাম বর্তমানে ‘বিচারাধীন’ পর্যায়ে রয়েছে। কাঁচরাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই চরযাত্রাসিদ্ধি গ্রামের বাসিন্দারা মূলত বিন (মাহাতো) সম্প্রদায়ের। তাঁদের দাবি, ১৯Attributes৮১ সাল পর্যন্ত তাঁরা হুগলি জেলায় ভোট দিলেও নদী ভাঙনের কারণে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নাম স্থানান্তরের জটলায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। বছরের পর বছর দুই জেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে তাঁরা ভোটার কার্ড পান।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজকুমার মাহাতো ক্ষোভের সঙ্গে জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষেরা দু’শো বছরের বেশি সময় ধরে এখানে রয়েছেন। আমাদের জন্মও এই গ্রামে। দীর্ঘ ২৮ বছর লড়াই করে ২০০৯ সালে ভোটার হতে পেরেছিলাম। এখন হঠাৎ দেখছি আমার তিন ভাইসহ পরিবারের ১৫ জনের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।” গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সমস্ত বৈধ প্রমাণপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার তাঁদেরই নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে কল্যাণী মহকুমার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর এবং এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পূর্ণ আইন মেনেই নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা থেকে এই ব্যাপক হারে নাম বাদ পড়ায় চর মধুসূদনপুরের আকাশে ফের অনিশ্চয়তার কালো ছায়া।