নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মালদহ জেলায় ‘বিচারাধীন’ ভোটারের সংখ্যা নিয়ে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। জেলার ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছে কংগ্রেস। সোমবার মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণা করা যাবে না। এই দাবিতে দোল উৎসবের পর আগামী ৫ মার্চ থেকে কলকাতার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভে বসতে চলেছে মালদহ জেলা কংগ্রেস।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ইশা খান চৌধুরী অভিযোগ করেন, “বিপুল সংখ্যক ভোটার যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তবে সেই নির্বাচন কখনওই অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে না।” তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান, সুজাপুর বিধানসভায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার এবং রতুয়ায় ১ লক্ষ ৪ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন। অথচ বিজেপির দখলে থাকা ইংলিশবাজার বা হবিবপুরের মতো এলাকায় এই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। সাংসদের দাবি, মানুষের মূল সমস্যা— কর্মসংস্থান বা গঙ্গা ভাঙন থেকে নজর ঘোরাতেই ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিভাজনের রাজনীতি করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নূরও (যিনি সম্প্রতি তৃণমূলে থাকার পর ফের কংগ্রেসে ফিরেছেন) সুর চড়িয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র বিভাজনের রাজনীতি করার উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলির প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের নাম এই তালিকায় রাখা হয়েছে। যদিও তালিকায় ৩০ শতাংশ হিন্দু ভোটারের নামও রয়েছে বলে তিনি জানান। কংগ্রেসের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, প্রদেশ নেতৃত্ব এবং হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত নিয়েই তাঁরা এই আন্দোলনে নামছেন। যতদিন না এই ৮ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানাবে হাত শিবির।