নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এবার সরাসরি ময়দানে নামছে নির্বাচন কমিশন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯ মার্চ দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাজ্যের ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সফরের পরেই দিল্লিতে ফিরে গিয়ে যে কোনো মুহূর্তে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেবে কমিশন।
ইতিমধ্যেই অসম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির মতো ভোটমুখী রাজ্যগুলি সফর সেরেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা। সূত্রের খবর, সোমবার দিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে রাজ্যের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঠিক ব্যবহার এবং স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও আপস করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বুথ বিন্যাস নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কাজ বকেয়া থাকায় নতুন করে বুথ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। ফলে আগের মতোই রাজ্যে মোট ৮০,৬৮১টি বুথেই ভোটগ্রহণ হবে। তবে বহুতল আবাসন বা জনবহুল এলাকায় ভোটারদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০টি বুথ যুক্ত হতে পারে। মূলত ১২০০-র বেশি ভোটার থাকা বুথগুলিকে ভেঙে নতুন বুথ করার কথা থাকলেও, সময় স্বল্পতার কারণে এবার তা কার্যকর হচ্ছে না।
ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে। আগামী ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে চলে আসবে। অর্থাৎ ভোটের দিন ঘোষণার আগেই রাজ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছে কমিশন। কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলিতে সব থেকে বেশি বাহিনী রাখা হচ্ছে। কমিশনের এই তৎপরতা দেখে স্পষ্ট, এপ্রিল-মে মাসেই বঙ্গে গণতন্ত্রের উৎসব শুরু হতে চলেছে।