নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে মুর্শিদাবাদ। তালিকা থেকে মৃত, নিরুদ্দেশ এবং স্থানান্তরিত ভোটার মিলিয়ে ইতিপূর্বেই প্রায় ২ লক্ষ ৭৮ হাজার নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাতেও বিতর্কের অবসান হয়নি। ১৮ লক্ষ ভোটারের শুনানির পর এবার ফের সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের নথিতে ‘অসঙ্গতি’ খুঁজে পেয়েছে কমিশন। শুধু তাই নয়, কাজে গাফিলতির অভিযোগে জেলার তিন এআইআরও (AIRO)-কে সাসপেন্ড করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে কমিশন।
কমিশন সূত্রে খবর, বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলায় বৈধ ভোটারের সংখ্যা ৫৪ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৪৮। তবে শেষ মুহূর্তে আরও সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের তথ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করায় নতুন করে রিভিউ শুরু হয়েছে। এই কাজে এবার নামানো হয়েছে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের। ফলে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম শেষ পর্যন্ত তালিকায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পথে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুনানির লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষকে নথিপত্র দিয়ে সাহায্য করার জন্য ক্যাম্পও করেছে তারা। বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার (ডেভিড) বলেন, “১৮ লক্ষ মানুষের শুনানি হওয়ার পরও নতুন করে সাড়ে চার লক্ষ নাম নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নির্দেশে কমিশন যেভাবে মানুষকে হয়রান করছে, তা অত্যন্ত অমানবিক।”
পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি-ও। বহরমপুরের বিজেপি নেতা লাল্টু দাসের দাবি, “তৃণমূলের মদতে অনুপ্রবেশকারীরা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। তারাই শাসকদলের ভোটব্যাঙ্ক। কমিশন এখন এই অবৈধ ভোটারদের বাদ দিতে চাইছে দেখেই তৃণমূলের মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।” অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, “প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তবে আমরা চাই প্রকৃত এবং বৈধ ভোটারদের একজনও যেন বাদ না পড়েন।” কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ আগামী নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।