নিউজ ডেস্ক: ভিন্‌রাজ্যের বাসিন্দা বলে বিএসএফ-এর (BSF) ট্রেডসম্যান নিয়োগের পরীক্ষা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার চাপড়া থানার সীমানগর বিএসএফ সেক্টর হেডকোয়ার্টার চত্বরে। বিহার এবং ওড়িশা থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, নির্দিষ্ট নথিপত্র এবং অ্যাডমিট কার্ড থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তাঁদের বলা হয় যে তাঁদের রাজ্যের জন্য কোনও শূন্যপদ নেই। এই ‘বৈষম্যে’র প্রতিবাদে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়ক দীর্ঘ ক্ষণ অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।

শূন্যপদের গোলকধাঁধা ও হয়রানি: ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিএসএফ-এর ৩,৫৮৮টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী গত মাস থেকে দেওয়া হয় অ্যাডমিট কার্ডও। মঙ্গলবার শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষার জন্য সীমানগর সেক্টর হেডকোয়ার্টারে ভিড় করেছিলেন কয়েকশো পরীক্ষার্থী। কিন্তু অভিযোগ, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়ানোর পর নথিপত্র যাচাইয়ের সময় আধিকারিকেরা সাফ জানিয়ে দেন, বিহার ও ওড়িশার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ট্রেডে কোনও ‘ভ্যাকেন্সি’ নেই। ওড়িশার চাকরিপ্রার্থী তন্ময়ী প্রধানের প্রশ্ন, “শূন্যপদ না থাকলে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হল কেন? তিন দফা তল্লাশির পর হঠাৎ কেন বলা হচ্ছে আমাদের জন্য জায়গা নেই?”

শুরু রাজনৈতিক তরজা: চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে দীর্ঘক্ষণ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে যায়। পরে চাপড়া থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন চাপড়ার তৃণমূল বিধায়ক রুকবানুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, “অমিত শাহের মন্ত্রক নিয়োগের নামে বেকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। কয়েকশো কিলোমিটার দূর থেকে আসা মহিলা পরীক্ষার্থীদের শৌচালয় পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।” বিএসএফ কর্তৃপক্ষের তরফে অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চরম দুর্ভোগে পরীক্ষার্থীরা: বিহারের ভাগলপুর থেকে আসা সুষমা কুমারীর আক্ষেপ, “সারা রাত ট্রেনে জেগে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সকাল ৯টার সময় বিএসএফ আধিকারিকেরা বলছেন, বিহারিদের জন্য আসন নেই। বিহারি বলে কি পশ্চিমবঙ্গে পরীক্ষা দিতে পারব না?” এই ঘটনার জেরে সীমানগর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের অনেকেই বাড়ি ফেরার পথখরচটুকু নিয়েও এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

Share on Social Media