নিউজ ডেস্ক: খোদ চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল শাসকদলের কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা শহরের সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। অভিযোগ, এগরা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতি ও তাঁর অনুগামীরা এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক তপেন্দু মান্না এবং তাঁর কম্পাউন্ডারের ওপর চড়াও হন। নিগ্রহের সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
তর্কাতর্কি থেকে হাতাহাতি: জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ডঃ তপেন্দু মান্নার চেম্বারে নিজের কাকিমাকে নিয়ে যান কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতির স্ত্রী। নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরি করে পৌঁছনো এবং অন্য এক মুমূর্ষু রোগীকে আগে দেখা নিয়ে কম্পাউন্ডারের সঙ্গে কাউন্সিলারের স্ত্রীর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। উত্তজনা চরমে ওঠে যখন কাউন্সিলারের শ্যালক শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায় চেম্বারের ভেতর ভিডিওগ্রাফি শুরু করেন। চিকিৎসক বাধা দিলে এবং ফোন কেড়ে নিলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। খবর পেয়েই সদলবলে চেম্বারে হাজির হন কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতি।
চেম্বারে তাণ্ডব: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাউন্সিলার চেম্বারে ঢুকেই কম্পাউন্ডারকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। চেয়ার তুলে হামলা চালানো হয়। চিকিৎসক তপেন্দুবাবু পরিস্থিতি সামাল দিতে বাইরে বেরিয়ে এলে কাউন্সিলারের স্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীরা চিকিৎসককে ধরে টানাহেঁচড়া করেন বলে অভিযোগ। খোদ সরকারি হাসপাতালের এক জন নামী চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে এমন ‘দাদাগিরি’র ঘটনায় স্তম্ভিত শহরবাসী। খবর পেয়ে এগরা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাল্টা দাবি কাউন্সিলারের: নিগ্রহের অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলার দেবদুর্লভ মাইতি পাল্টা দাবি করেছেন, “আমার কাকি শাশুড়ি অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। চেম্বারে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ও কম্পাউন্ডার চরম দুর্ব্যবহার করেন। আমি গিয়ে দেখি আমার স্ত্রীকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং শ্যালককে মারধর করা হয়েছে। সেই দৃশ্য দেখে আমি মেজাজ হারিয়েছিলাম।” যদিও নিগৃহীত চিকিৎসক এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি।
পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।