নিউজ ডেস্ক: বিশ্বভারতীর অন্দরমহলে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ নিয়ে বিতর্ক যেন থামতেই চাইছে না। এবার শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লি এলাকায় যাতায়াতের রাস্তা পাকাপাকিভাবে বন্ধ করতে কংক্রিটের গেট তৈরির তোড়জোড় শুরু করল কর্তৃপক্ষ। আগে যে সব রাস্তায় বাঁশের ব্যারিকেড বা ড্রপ গেট বসিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল, সেখানে এবার স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হতেই নতুন করে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থায়ী গেটের আতঙ্ক: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন জনবহুল রাস্তায় নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে অন্তত সাতটি জায়গায় ড্রপ গেট বসিয়েছিল। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সেই সব অস্থায়ী ব্যারিকেডের পাশেই মাটি খুঁড়ে কংক্রিটের গেট বসানোর ভিত কাটা হচ্ছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, একবার এই গেট তৈরি হয়ে গেলে জনসাধারনের চলাচলের পথ চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যাবে।
বিপাকে প্রবীণ ও অসুস্থরা: এলাকার বাসিন্দা চৈতালি সরকার ও কঙ্কনা দাসদের অভিযোগ, “এই এলাকায় বহু প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ থাকেন। কংক্রিটের গেট বসিয়ে দিলে তাঁদের যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। সবচেয়ে বড় ভয়, হঠাৎ কোনও অগ্নিকাণ্ড বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দমকল বা অ্যাম্বুলেন্স ঢুকবে কোন দিক দিয়ে?” এই সমস্যার কথা জানিয়ে ইতিপূর্বেই জেলাশাসকের কাছে গণস্বাক্ষর-সহ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন বাসিন্দারা।
কর্তৃপক্ষের যুক্তি ও প্রশাসনের ভূমিকা: বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ অবশ্য জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই স্থায়ী গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পূর্বপল্লিতে যাতায়াতের একাধিক বিকল্প রাস্তা রয়েছে এবং সেগুলি সংস্কারের কাজও করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। যদি কংক্রিটের গেটের কারণে জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়, তবে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য বনাম নিরাপত্তার এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আশ্রমিক ও শান্তিনিকেতনপ্রেমীরা।