নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহে যখন কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজ্য, ঠিক তখনই খাস শান্তিনিকেতনে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কবিগুরুর স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনের একটি হোমে আশ্রিতা ওই নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বুধবার রাতের এই নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার শান্তিনিকেতন থানা চত্বর রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হোমের ভেতরেই চরম লাঞ্ছনা: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শান্তিনিকেতনের ওই হোমে থেকে পড়াশোনা করত নাবালিকাটি। অভিযোগ, বুধবার রাতে সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণাকাতর নাবালিকার করুণ আর্তি, “আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা যেন আর কারও সঙ্গে না হয়। আমি বেঁচে ফিরব কি না জানি না, কিন্তু দোষীদের যেন চরম শাস্তি হয়।”
থানায় বিক্ষোভ ও জনরোষ: বৃহস্পতিবার রাতে শান্তিনিকেতন থানায় এই মর্মে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে শুক্রবার পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়। এদিন সকাল থেকেই শান্তিনিকেতন থানার সামনে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তার অভাবেই অপরাধীদের সাহস বাড়ছে। বিক্ষোভকারীদের সাফ হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কঠোরতম ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
পুলিশি তৎপরতা ও আশ্বাস: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার সূর্যপ্রসাদ যাদব জানিয়েছেন, “লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” যদিও বিশ্বভারতীর এই পবিত্র ভূমি কেন বারবার নারী নিগ্রহের ঘটনায় শিরোনামে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশিষ্টজনরা। আপাতত অভিযুক্তদের ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।