নিউজ ডেস্ক: আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে দেশজুড়ে ঘনিয়ে আসা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার ব্রহ্মাস্ত্র প্রয়োগ করল দিল্লি। ১৯৫৫ সালের ‘অত্যাবশ্যক পণ্য আইন’-এর (Essential Commodities Act) ৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ও বন্টন নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রান্নার গ্যাস বা জ্বালানি তেল নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত মজুত করলে বা বেআইনিভাবে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীর লাইসেন্স সরাসরি বাতিল করা হবে।
মজুতদারি রুখতে কড়াকড়ি: আরব দুনিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে তরল গ্যাস আমদানি বর্তমানে চরম বিঘ্নিত। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, এই সুযোগে কিছু মানুষ আতঙ্ক ছড়িয়ে অতিরিক্ত গ্যাস মজুত করছেন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মুম্বইয়ে, যেখানে জ্বালানির অভাবে বহু হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধের মুখে। এই জট কাটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সমস্ত উৎপাদনকারী সংস্থাকে মঙ্গলবারই সর্বোচ্চ উৎপাদন বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কাদের মিলবে অগ্রাধিকার? নতুন আইন অনুযায়ী, সরকার উৎপাদন ও জোগানের মধ্যে সমতা ফেরাতে কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
-
গড় ব্যবহার নিশ্চিতকরণ: শহরগুলিতে গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গত ৬ মাসের গড় ব্যবহারের অন্তত ৮০ শতাংশ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
-
বরাদ্দ হ্রাসের ক্ষমতা: পরিস্থিতি বিচার করে সরকার প্রয়োজনে এই গ্যাস বরাদ্দ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখেছে।
-
জরুরি পরিষেবায় গুরুত্ব: সাধারণ গৃহস্থ ও জরুরি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বরাদ্দ করা হবে।
রাজ্যকেও বিশেষ ক্ষমতা: সর্বভারতীয় এই আইনের অধীনে কেবল কেন্দ্রীয় সরকার নয়, রাজ্য সরকারগুলিও নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। মজুতদারি বা কালোবাজারি রুখতে তল্লাশি অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার রাস্তা এখন প্রশাসনের জন্য প্রশস্ত। বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানানো হয়েছে, সমতাভিত্তিক বিপণন নিশ্চিত করাই এই আইনের প্রধান লক্ষ্য। আমদানির সমস্যার জেরে যাতে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে আগুন না লাগে, তার জন্যই এই জরুরি হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।