নিউজ ডেস্ক: পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, তারপর বিশ্বাস ঘাতকতার এক চরম নৃশংস উদাহরণ দেখল বীরভূমের রামপুরহাট। সেনা জওয়ানের স্ত্রীকে মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে ধর্ষণ, আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল এবং দফায় দফায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে হুগলির পাণ্ডুয়ার এক যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্ত সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ও ব্ল্যাকমেল: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী। তাঁর স্বামী ভিন রাজ্যে কর্মরত সেনা জওয়ান। ২০২১ সালে কাজের সুবাদে পাণ্ডুয়ার বাসিন্দা সৌভিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। গত ১ অক্টোবর সৌভিক ওই যুবতীর ফ্ল্যাটে এসে মাদক মেশানো ঠান্ডা পানীয় খাইয়ে তাঁকে অচৈতন্য করে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। কেবল তাই নয়, সেই নক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ও ছবিও তুলে রাখে অভিযুক্ত। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্ল্যাকমেল। ভিডিও ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আরও ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় অভিযুক্ত।
হোটেলে ডেকে পুনরায় নিগ্রহ: নির্যাতিতার দাবি, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রামপুরহাটের একটি হোটেলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁকে দেখা করতে বলে সৌভিক। সেখানেও ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ফের তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং টাকা লুঠ করা হয়। দীর্ঘদিনের এই মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত স্বামীকে বিষয়টি জানান যুবতী। গত ৪ ফেব্রুয়ারি রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দম্পতি।
কাকদ্বীপ থেকে গ্রেপ্তার: অভিযোগ দায়ের হতেই গা ঢাকা দেয় সৌভিক। পাণ্ডুয়ার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও তার হদিশ মেলেনি। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আনে রামপুরহাট থানার পুলিশ। সেখানে এক পরিচিতের বাড়িতে সে আত্মগোপন করে ছিল। সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি জানান, ধৃতের কাছ থেকে তথ্যপ্রমাণ উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতা।