নিউজ ডেস্ক: বীরভূম: শান্তিনিকেতন সংলগ্ন বোলপুরে ছেলেধরা সন্দেহে এক আদিবাসী যুবককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ঘিরে ছড়াল তীব্র উত্তেজনা। বুধবার সকালে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বোলপুর-ইলামবাজার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে মির্জাপুরের বাসিন্দা মঙ্গলা বাসকি নামে এক যুবক রায়পুর হয়ে কাকুটিয়া যাচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই একদল লোক তাঁকে ‘ছেলেধরা’ বলে সন্দেহ করতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে বোলপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই বুধবার সকাল থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তায় বসে পড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। তাঁদের দাবি, বিনা অপরাধে একজন নিরীহ যুবককে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে, তাই অবিলম্বে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। বিক্ষোভের জেরে ব্যস্ততম বোলপুর-ইলামবাজার সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বোলপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশি আশ্বাসে শেষ পর্যন্ত অবরোধ উঠলেও এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের বয়ান খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। গুজব ছড়িয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।