নিউজ ডেস্ক: বসন্তের শুরুতেই জঙ্গলমহল জুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। আর সেই আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা পেলেন না খোদ এক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) জওয়ান। বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর চৈতার জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর জখম হলেন বিএসএফ জওয়ান অমিত ঘোষ (২৫)। বর্তমানে তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনদপ্তরের নজরদারি ও জঙ্গলে আগুন লাগানোর প্রবণতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
ছুটিতে বাড়ি ফিরে বিপত্তি: পেশায় জওয়ান অমিতের পোস্টিং বর্তমানে কাশ্মীরে। গত ৩ মার্চ ছুটি নিয়ে শালবনীর বাড়িতে ফেরেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়েছিলেন অমিত। শুকনো পাতায় ঢাকা একটি বড় গর্তের অস্তিত্ব তিনি বুঝতে পারেননি। অসাবধানবশত সেই গর্তে পা পড়তেই ঘটে বিপত্তি। গর্তের ভেতরে থাকা নিভু নিভু আগুনের তাপে অমিতের দুই পা মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে শালবনী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে মেদিনীপুরে স্থানান্তরিত করা হয়।
জঙ্গলমহলে আগুনের আতঙ্ক: পাতা ঝরার মরসুম শেষে এখন গোটা জঙ্গল চাদরের মতো শুকনো পাতায় ঢাকা। অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন জঙ্গলে আগুনের ঘটনায় নাজেহাল বনদপ্তর। অমিতের আত্মীয় তপন কবিরাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। যারা বনের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
তদন্তে বনদপ্তর: মেদিনীপুর ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত ডিএফও শিবানন্দ রাম জানান, “অসৎ উদ্দেশ্যে জঙ্গলে আগুন লাগানোর ফলে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। জওয়ানের আহত হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” বনদপ্তরের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের সচেতন করতে প্রচার চালানো হলেও, বারবার এই ধরনের ঘটনায় বনকর্মীরাও হিমশিম খাচ্ছেন।