নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সড়কে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীদের জন্য এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। ডানকুনি টোল প্লাজা দিয়ে এবার থেকে বর্ধমানগামী যে কোনও গাড়িকে আর টোল দিতে হবে না। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই রুটটি টোল-মুক্ত বা ‘ফ্রি’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বর্ধমান থেকে কলকাতাগামী লেনে আগের মতোই নির্ধারিত টোল দিয়ে যাতায়াত করতে হবে। আচমকা এই সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মুখে হাসি ফুটলেও, এর নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন তুঙ্গে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনও কারণ না জানালেও, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্প্রতি বর্ধমান-দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের সাইড ওয়াল ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রবল বিড়ম্বনায় পড়েছে তারা। রাস্তার এই বেহাল দশা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করতেই ড্যামেজ কন্ট্রোল হিসেবে একদিকের টোল মকুব করার এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক তরজা ও কাদা ছোড়াছুড়ি: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সম্মুখ সমরে বিজেপি ও তৃণমূল। ডানকুনি তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রকাশ রাহা তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “এটা কেন্দ্রের ড্যামেজ কন্ট্রোল ছাড়া আর কিছু নয়। এক বছরও হয়নি রাস্তা তৈরি হয়েছে, অথচ এখনই নিম্নমানের সামগ্রীর জন্য তা ভেঙে পড়ছে। সাধারণ মানুষের টোলের টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়, অথচ তাঁদেরই নিরাপত্তা নেই।”
পাল্টা জবাব দিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, “জাতীয় সড়কের ব্যয়ভার কেন্দ্র বহন করলেও কাজ হয় রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে। তৃণমূলই ভেজাল মাল সাপ্লাই করছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ত্রুটি থাকতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির শিকড় অন্যদিকে।”
যাত্রীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া: একদিকের টোল মকুব হওয়ায় সাময়িকভাবে আর্থিক স্বস্তি মিললেও, রাস্তার দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বর্ধমানগামী লেনে কতদিন এই সুবিধা মিলবে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি টোল কর্তৃপক্ষ। আপাতত ডানকুনি টোল প্লাজায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় জাতীয় সড়কের ওই অংশে গাড়ির গতি কিছুটা বেড়েছে।