নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার এসে লাগল খোদ তারাপীঠের মন্দিরে। একদিকে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের চরম সংকট, অন্যদিকে পুণ্যার্থীদের আকাল— দুই মিলিয়ে বীরভূমের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে এখন গভীর উদ্বেগের ছায়া। পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে দ্রুত সমাধান না হলে অচিরেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় হোটেল মালিক থেকে শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার তারাপীঠের চেনা ভিড় উধাও হতে দেখা গিয়েছে, যা কার্যত নজিরবিহীন।
দ্বারকা ব্রিজে পর্যটকের আকাল: কথিত আছে, সবার গুরু বৃহস্পতি আর বৃহস্পতির গুরু মা তারা। সেই কারণে প্রতি বৃহস্পতিবার তারাপীঠে ভক্তদের যে ঢল নামে, তাতে দ্বারকা ব্রিজ পার হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। কিন্তু এদিনের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার না মেলায় একের পর এক রেস্তরাঁ ও হোটেল ঝাঁপ ফেলতে শুরু করেছে। পর্যটকদের খাবার জোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় অনেকেই বুকিং বাতিল করছেন। তারাপীঠ হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুনীল গিরি জানান, “ভরা মরশুমে এমন বিপর্যয় আগে দেখিনি। অধিকাংশ হোটেল খুব জোর শনিবার পর্যন্ত চলবে, তারপর সব বন্ধ করে দিতে হবে।”
কালোবাজারি ও ঘরোয়া সিলিন্ডারের কারবার: সংকটের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু কারবারি গ্যাসের কালোবাজারি শুরু করেছে বলে অভিযোগ। একটি হোটেলের ম্যানেজার রামকৃষ্ণ বাগদি জানান, খুচরো সরবরাহকারীরা সিলিন্ডারের দ্বিগুণ দাম চাইছে। ফলে খাবারের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক ছোট ব্যবসায়ী আইন ভেঙে ঘরোয়া গ্যাস ব্যবহার করে উনুন জ্বালাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, ব্যবসা না চালালে কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের পেট চলবে না।
শ্মশানেও প্রভাব, বন্ধ হওয়ার মুখে ভাণ্ডারা: গ্যাসের অভাব কেবল হোটেল ব্যবসাতেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রভাব পড়েছে তারাপীঠ শ্মশানেও। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় জানান, তারাপীঠ শ্মশানে প্রতিদিন হাজার হাজার সাধু ও ভক্ত ভাণ্ডারার প্রসাদ খান। কিন্তু সিলিন্ডার না মেলায় অনেক সেবাইত এখন ভাণ্ডারা নিতে সাহস পাচ্ছেন না। এর ফলে সাধু ও দুস্থদের অভুক্ত থাকার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
সংকটে লক্ষাধিক মানুষের রুটি-রুজি: তারাপীঠের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হাজার হাজার পরিবার। হোটেল-রেস্তরাঁ বন্ধ হলে ফুল, প্যাঁড়া ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে লজ মালিক— সকলেই আর্থিক অনটনের মুখে পড়বেন। রামপুরহাট ও তারাপীঠের গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটররা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও স্কুল ছাড়া বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে তারাপীঠের ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকারের দিকেই এগোচ্ছে।