নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ কেরোসিন তেলের কোটা বরাদ্দ করল পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্যই যে এই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জোগানে টান পড়ার এই আপদকালীন পরিস্থিতিতে আমজনতাকে স্বস্তি দিতেই কেন্দ্রের এই ‘অ্যাডহক’ বরাদ্দ।
বরাদ্দে এগিয়ে বাংলা: জনসংখ্যার ভিত্তিতে রাজ্যগুলির জন্য মোট ৪৮ হাজার ২৪০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। প্রাপ্তির নিরিখে উত্তরপ্রদেশ (৭৯৩২ কিলোলিটার) ও বিহারের (৪৪৫২ কিলোলিটার) পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের জন্য অতিরিক্ত ৪১৬৪ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যে সমস্ত বিজেপি শাসিত রাজ্য কেন্দ্রের নির্দেশে কেরোসিনের নিয়মিত বরাদ্দ ছেড়ে দিয়েছিল, সংকটের মুখে তাদেরও এই বিশেষ কোটা দেওয়া হয়েছে।
রেশনে জোগানের লড়াই: রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি রেশন গ্রাহকের জন্য মাসিক কেরোসিন বরাদ্দ কমে ১৯ হাজার কিলোলিটারে ঠেকেছে, যা এক সময় ছিল ৫৮ হাজার কিলোলিটার। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ বরাদ্দকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখছেন কারবারিরা। ওয়েস্ট বেঙ্গল কেরোসিন ডিলারস অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক গুপ্ত জানান, এই বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে বিশাল চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়, তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে দূষণের কথা না ভেবে আরও বেশি পরিমাণে কেরোসিন রেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কড়া নজরদারির নির্দেশ: বিশেষ বরাদ্দের এই কেরোসিন যাতে অপব্যবহার না হয়, তার জন্য রাজ্যগুলিকে কড়া গাইডলাইন দিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। মূলত গ্রামীণ এলাকায় রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্যই এই তেল দিতে হবে। পেট্রল বা ডিজেলে ভেজাল দেওয়ার কাজে যাতে এই কেরোসিন ব্যবহৃত না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই বিশেষ বরাদ্দ রাজ্যগুলিকে তুলে নিতে হবে। গ্যাসের জোগানে অনিশ্চয়তা চলায় এই অতিরিক্ত কেরোসিনই এখন সাধারণ মানুষের বড় ভরসা।