নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তার ঠিক আগেই রাজ্যের ভোট পরিচালনায় এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে জেলাশাসকদের (DM) পরিবর্তে মহকুমা শাসক (SDO) বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের রিটার্নিং অফিসার (RO) পদে নিয়োগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। শুক্রবার কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই মহকুমা শাসকরাই এবার নির্বাচনের মূল কাণ্ডারি হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।
পুরানো প্রথায় প্রত্যাবর্তন: সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মহকুমা শাসকদেরই রিটার্নিং অফিসার পদে নিয়োগ করার রীতি রয়েছে। তবে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ অনুরোধে জেলাশাসকদের এই পদে নিয়োগ করেছিল কমিশন। এবার সেই ‘ব্যতিক্রমী’ প্রথা ভেঙে দিয়ে কমিশন মূল প্রশাসনিক কাঠামোর নিয়মে ফিরে গেল। এর ফলে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি মহকুমা স্তরের আধিকারিকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।
কমিশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: কমিশন সূত্রে খবর, জেলাশাসকদের ওপর প্রশাসনিক কাজের চাপ অনেক বেশি থাকে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত, স্বচ্ছ এবং গতিশীল করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসকরা সরাসরি ফিল্ড পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় ভোট গ্রহণ থেকে গণনা— প্রতিটি স্তরে নজরদারি চালানো অনেক সহজ হবে। ইতিমধেই ২৯৪টি আসনে এই নতুন আধিকারিকদের নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নবান্নকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা: ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই কি এই বদল, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই রদবদলের ফলে তৃণমূল স্তরে নির্বাচন পরিচালনার কৌশলে কতটা পরিবর্তন আসে, সেদিকেই এখন নজর ওয়াকিবহাল মহলের। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও শাসক শিবিরের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।