নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের জোগানে হাহাকার। জ্বালানি সংকটে নৈহাটির বড়মা-সহ রাজ্যের একাধিক মন্দিরে যখন ভোগ বিতরণ সাময়িক স্থগিত, তখন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি বেলুড় মঠে। এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের আকাল সত্ত্বেও বিকল্প প্রযুক্তির হাত ধরে মঠের বিশাল রান্নাঘরকে সচল রেখেছেন সন্ন্যাসীরা। বৃহস্পতিবারও বেলুড় মঠে নিয়ম মেনেই হাজার হাজার ভক্তকে পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানো হয়েছে।
বেলুড় মঠের ‘মাস্টারপ্ল্যান’: বেলুড় শ্রীরামকৃষ্ণ মঠে রোজ গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের ভোগ রান্না হয়। এই বিপুল আয়োজনে রোজ প্রচুর জ্বালানি লাগে। মঠ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রান্নার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে অনেক আগেই তাঁরা নিজস্ব ‘বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট’ তৈরি করেছেন। মঠের নিজস্ব গোশালার বর্জ্য থেকেই এই জৈব গ্যাস উৎপাদিত হয়, যা রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পাশাপাশি মঠে বসানো হয়েছে বিশাল সোলার প্যানেল। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে জল গরম করা থেকে শুরু করে রান্নার একাধিক কাজ সামলানো হচ্ছে। ফলে গ্যাসের সংকট মঠের হেঁশেলে কোনও আঁচ ফেলতে পারেনি।
দক্ষিণেশ্বর ও আদ্যাপীঠের প্রস্তুতি: বেলুড়ের মতো দক্ষিণেশ্বর মন্দিরেও রোজ কয়েকশো ভক্ত মায়ের প্রসাদ পান। মন্দির অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন, সেখানে মূলত গ্যাসেই রান্না হয়। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ কমলেও এখনই ভোগ বিতরণ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি আসেনি। তবে সংকট বাড়লে বিকল্প চিন্তা করা হবে। অন্যদিকে, আদ্যাপীঠ মন্দিরে রোজ প্রায় ১০ হাজার মানুষ অন্নগ্রহণ করেন। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ব্রহ্মচারী মুরালভাই জানান, “মায়ের আদেশ অনুযায়ী ৫০০ জন নরনারায়ণকে প্রসাদ দিতেই হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা জৈব জ্বালানির পাশাপাশি এখন ডিজেলের উনুন ব্যবহারের চেষ্টা করছি।”
বিপর্যস্ত অন্য সত্রগুলি: তবে সব মন্দির বেলুড় মঠের মতো স্বনির্ভর নয়। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার না মেলায় অনেক ছোট-বড় মন্দিরে ইতিমধ্যেই ভোগ বিতরণে কাটছাঁট করা হয়েছে। বিশেষ করে যে সমস্ত মন্দির পুরোপুরি এলপিজি-র ওপর নির্ভরশীল, তাদের অবস্থা শোচনীয়। ডিলারদের কাছে মজুত ভাণ্ডার শেষ হয়ে আসায় আগামী শনিবারের মধ্যে আরও অনেক জায়গায় অন্নভোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেলুড় মঠের জৈব গ্যাস ও সৌরশক্তির মডেলই এখন পথ দেখাচ্ছে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে।