নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ তিন বছর পর অবশেষে রাজভবনে ফিরছে প্রশাসনিক সক্রিয়তা। প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের জমানায় কার্যত ‘সচিব-শূন্য’ হয়ে পড়েছিল রাজভবন। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার নিজের সচিবালয় ঢেলে সাজানোর তোড়জোড় শুরু করলেন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি। বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নবান্নে ইমেল পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদে আধিকারিক নিয়োগের আর্জি জানিয়েছে রাজভবন।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই রাজভবনের প্রধান সচিব পদটি দীর্ঘকাল খালি পড়ে ছিল। নবান্ন বারবার উদ্যোগী হলেও প্রাক্তন রাজ্যপাল সেই পদে কাউকে নিয়োগ করতে আগ্রহী ছিলেন না বলেই আমলাদের একাংশের ধারণা। তবে নতুন রাজ্যপাল দায়িত্ব নিয়েই এক জন আইএএস (IAS) অফিসারকে নিজের প্রধান সচিব হিসেবে চেয়েছেন। এ ছাড়াও বিশেষ সচিব পদের জন্য এক জন প্রোমোটি আইএএস এবং যুগ্ম ও ডেপুটি সচিব পদের জন্য তিন জন ডব্লুবিসিএস (WBCS) অফিসারের নাম চাওয়া হয়েছে।
শুধু সচিব পর্যায়ের আধিকারিকই নয়, নিজের কাজের সুবিধার্থে ছ’জন ওএসডি (OSD) এবং দু’জন পিএ (PA) নিয়োগের জন্যও নবান্নের অনুমোদন চেয়েছে রাজভবন। পরবর্তী পর্যায়ে নিচুতলার কর্মী বা অ্যাসিস্ট্যান্ট পদগুলিও পূরণ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপালের মধ্যে যে সৌজন্যের বিনিময় হয়েছে, তাতে রাজভবন ও নবান্নের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী যেমন বাংলাকে সংস্কৃতির ভূমি হিসেবে রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরেছেন, তেমনই রাজ্যপালও কলকাতাকে ভারতের ‘সাংস্কৃতিক রাজধানী’ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এই ইতিবাচক আবহে আমলা নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত মসৃণভাবেই সম্পন্ন হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।