নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় প্রশাসনিক কামড় দিল নির্বাচন কমিশন। এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে সরিয়ে দেওয়া হলো রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। একই সঙ্গে দায়িত্ব থেকে অপসারিত করা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। কমিশনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোটপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে অংশ নিতে পারবেন না এই দুই শীর্ষ আমলা।
আদর্শ আচরণবিধি জারি হওয়ার পরপরই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক মহলে কার্যত কম্পন সৃষ্টি করেছে। নন্দিনী চক্রবর্তীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস অফিসার দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। ইতিপূর্বে তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সামলেছেন। অন্যদিকে, জগদীশপ্রসাদ মীনার জায়গায় রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষ। সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যেই তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনার বদলের ভুরিভুরি উদাহরণ থাকলেও, খোদ মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে কার্যত বিরল। অতীতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য এবং পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। তবে এবার একেবারে নবান্নের শীর্ষতম স্তরে এই বড় রদবদল বিশেষ ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে মাত্র দুই দফায়— ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। রবিবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমলা স্তরে এই কড়া পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল যে, এবার ভোটের ময়দানে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরিকর কমিশন। ৪ মে ভোট গণনা পর্যন্ত নবান্নের রাশ কার্যত থাকবে দিল্লির এই দুই নতুন নিযুক্ত আধিকারিকের হাতেই।