নিউজ ডেস্ক: হস্টেলের ট্যাঙ্কের জল খরচ করে জামাকাপড় ধুয়েছিল ছাত্রীরা। আর সেই ‘অপরাধে’ একদল নাবালিকাকে দীর্ঘক্ষণ কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ উঠল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। যারা শাস্তি পালন করতে পারেনি, তাদের কপালে জুটেছে স্কেলের মার। অমানবিক এই ঘটনার জেরে বেশ কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার পায়রাচক গ্রাম সংলগ্ন শ্রী শ্রী যুক্তেশ্বর কন্যা বিদ্যাপীঠে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা আপাতত ফেরার।
স্কুল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বিদ্যালয়ের হস্টেলে প্রায় ৫০ জন ছাত্রী থাকে। গত শনিবার বিকেলে হস্টেলের ট্যাঙ্কের জল ব্যবহার করে জামাকাপড় কাচে ছাত্রীরা। এতে ট্যাঙ্কের জল প্রায় শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, সন্ধ্যায় ওই শিক্ষিকা বাথরুমে গিয়ে জল না পেয়ে মেজাজ হারান। এর পর সান্ধ্য প্রার্থনার সময় সমস্ত ছাত্রীকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দীর্ঘক্ষণ কান ধরে ওঠবস করার নির্দেশ দেন তিনি। যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তাদের স্কেল দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।
শিক্ষিকার এমন ‘তালিবানি’ শাস্তির জেরে বেশ কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের দ্রুত ময়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। খবর পেয়ে হস্টেলে পৌঁছন অভিভাবকরা। অলকা বর্মন নামে এক অভিভাবক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ট্যাঙ্কের জল খরচ হয়েছে বলে মেয়েদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে? আমার মেয়ে দীর্ঘক্ষণ ওঠবস করার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।” আর এক অভিভাবক মিঠু বর্মনের দাবি, তাঁর মেয়েকে স্কেল দিয়ে নির্দয়ভাবে মারা হয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। রবিবার সকালে অভিভাবকরা হস্টেলে চড়াও হলে দেখা যায়, অভিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকা তার আগেই হস্টেল ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন। স্কুলের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সম্পাদক অভিজিৎ নায়েক বলেন, “খবর পেয়েই রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দুই-তিনজন ছাত্রী অসুস্থ ছিল। এই ধরনের আচরণ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।” ময়নার বিডিও জগন্নাথ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর কানে এসেছে এবং আপাতত পরিস্থিতি স্থিতিশীল। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে পায়রাচক এলাকায়।