নিউজ ডেস্ক: বেলডাঙা হিংসা মামলায় আরও একবার আইনি লড়াইয়ে মুখ পুড়ল নবান্নের। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় হওয়া অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্ট যে এনআইএ (NIA) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, সোমবার তাতে সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারির আর্জি নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু এদিন সেই আর্জি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ জানিয়ে দিল, হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তাঁর পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমি মনে করি হাইকোর্টের গৃহীত দৃষ্টিভঙ্গি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ।” শীর্ষ আদালতের এই অনড় অবস্থানের ফলে বেলডাঙার অশান্তির তদন্তভার এখন থেকে পাকাপাকিভাবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতেই থাকল। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের শাসক দলের অস্বস্তি আরও বাড়াল বলেই মনে করছে আইনজীবী মহলের একটা বড় অংশ।
শুনানির শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন যে, সব পুলিশি নথি এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের পরিপন্থী। তাঁর দাবি ছিল, ওই নির্দেশে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল যে বেলডাঙার ঘটনায় ইউএপিএ (UAPA) ধারা প্রযোজ্য হবে কি না, তা হাইকোর্ট বিবেচনা করে দেখবে। কিন্তু এই যুক্তি ধোপে টেকেনি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “দুই আদালতের অবস্থানে কোনও ফারাক দেখা যাচ্ছে না। কারণ, সব নথি খতিয়ে দেখার পরেই হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে যে এক্ষেত্রে ইউএপিএ ধারা প্রযোজ্য হবে কি না।”
এই নির্দেশের ফলে নবান্নকে এখন বেলডাঙা সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও বয়ান কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের স্পর্শকাতর এলাকায় এই কেন্দ্রীয় তদন্তের জাল কতদূর বিস্তৃত হয় এবং এর ফলে নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।