নিউজ ডেস্ক: বসন্তের শুরুতে রুদ্রমূর্তি ধরল প্রকৃতি। মাত্র আধ ঘণ্টার নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টিতে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো ডুয়ার্স থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। আজ , মঙ্গলবার বিকেলে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এবং সোমবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকে আকাশের ‘পাথর-বৃষ্টি’তে কয়েক হাজার বাড়িঘর এখন বাসের অযোগ্য। শিলাবৃষ্টির মারে শুধু ঘরবাড়ি নয়, ডুয়ার্সের চা শিল্প এবং উত্তরবঙ্গের কৃষিতেও বড়সড় আর্থিক বিপর্যয়ের ভ্রুকুটি দেখা দিয়েছে।
নাগরাকাটা ব্লকের সুলকাপাড়া ও আংরাভাসা এলাকায় মঙ্গলবার বিকেলে যে দুর্যোগ আছড়ে পড়ে, তাকে ‘নজিরবিহীন’ বলছেন স্থানীয়রা। আধ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কয়েকশো বাড়ির টিনের চাল শিলার আঘাতে চালুনির মতো শতছিদ্র হয়ে গিয়েছে। সুলকাপাড়ার বুনি খাতুন বা মালতি হাসদাদের মতো বাসিন্দারা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন; ঘরভর্তি শিলা আর জল, ভিজে গিয়েছে বিছানাপত্র ও খাবার। আংরাভাসার তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি রাজেন ফুয়েল একে ‘নজিরবিহীন বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির বিশদ রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।
শিলাবৃষ্টির এই মারণ কামড় সবচেয়ে বেশি লেগেছে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে। বানারহাট ও মালবাজার এলাকার মোগলকাটা, হলদিবাড়ি ও রাণিচেড়া চা বাগানে নতুন কুঁড়ি আসার মুখেই শিলাবৃষ্টিতে সব ঝরে পড়েছে। চা বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, শিলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত চা গাছগুলিতে পরবর্তীতে ছত্রাক ও রোগের আক্রমণ হতে পারে, যা সামগ্রিক উৎপাদন কমিয়ে দেবে। অন্যদিকে, কুমারগঞ্জ, হিলি ও বালুরঘাটে বিঘার পর বিঘা গম এবং আমের মুকুল শিলার আঘাতে মাটিতে মিশে গিয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের পলাশবাড়ি ও শালকুমারহাট এলাকাতেও ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শালকুমারহাটের বিখ্যাত করলা চাষ ও ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। মাঝিয়ান আবহাওয়া দপ্তরের মতে, সোমবার রাতে দমকা হাওয়ার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩৯ কিমি। দুর্যোগ এখনই কাটছে না, আগামী ২১ ও ২২ মার্চ পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত বিদ্যুৎহীন বহু এলাকা, প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।