নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ির মেডিকেল ফাঁড়ির বিধানপল্লী এলাকায় ১০ বছরের এক নাবালকের নিখোঁজ রহস্যের অবসান হল এক মর্মান্তিক সত্যের উন্মোচনের মধ্য দিয়ে। সাত দিন পর জানা গেল, নিখোঁজ ওই নাবালককে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে খুন (Brutally murdered) করেছে তার নিজের সৎবাবা উত্তম বর্মন। শীতলকুচির বাসিন্দা ওই অভিযুক্তকে একটানা জিজ্ঞাসাবাদের পর মঙ্গলবার রাতেই পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে সে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বৃহস্পতিবার চার্জার নেওয়ার অছিলায় বিধানপল্লীর বাড়িতে ফিরেছিল উত্তম। এরপর সৎছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যায় সে, তারপর থেকেই ওই নাবালকের আর কোনও খোঁজ মিলছিল না। ছেলে নিখোঁজ থাকার পিছনে প্রথম থেকেই স্বামীর ওপর সন্দেহ পোষণ করেছিলেন স্ত্রী সাবেত্রী বর্মন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই গত রবিবার উত্তমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হলে একদিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। এরপর মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে ফের তোলা হলে ৫ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রাতেই একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাবতীয় রহস্যের উন্মোচন হয়।
জেরায় উত্তম স্বীকার করে, ওই নাবালককে তার পছন্দ ছিল না এবং তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেই সে এবার শীতলকুচি থেকে বাইক নিয়ে বিধানপল্লীতে এসেছিল। ঘটনার দিন সে তাকে নিয়ে গিয়ে গজলডোবার সাব-ক্যানেলে (Gajoldoba sub-canal) ফেলে দিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পরেই বুধবার সকাল থেকে মেডিকেল ফাঁড়ির পুলিশ গজলডোবার সেই ক্যানেলে নাবালকের দেহ উদ্ধারের জন্য ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেছে। সৎবাবার এই পাষণ্ড রূপ দেখে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে গোটা বিধানপল্লী এলাকা।