নিউজ ডেস্ক: কলকাতার অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারকে ১২০ ঘণ্টা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ লালবাজারের গোয়েন্দাদের। এই জালিয়াতির শিকড় শুধু অশোকনগর বা কলকাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে রয়েছে মুম্বইয়ের ধারাভি থেকে রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত। তদন্তে নেমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ৫০০-র বেশি ‘মিউল’ বা ভাড়া নেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখা। তবে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, লুঠ হওয়া ৩ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা এখনও পর্যন্ত ব্লক করতে পেরেছেন আধিকারিকরা।
ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দাপ্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, ধৃত মহম্মদ আমজাদ ও অর্পণ সিকদারের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া হার্ড ড্রাইভ ঘেঁটে বিস্ফোরক সব তথ্য মিলেছে। দেখা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রেই রয়েছে ২৩৩টি মিউল অ্যাকাউন্ট, যার বড় অংশই মুম্বইয়ের ধারাভি এলাকার। এছাড়াও রাজস্থানে ১৫০-র বেশি এবং ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এই জালিয়াতির জাল বিছানো রয়েছে। সাধারণ মানুষের থেকে কমিশনের বিনিময়ে এই অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়া নিত প্রতারকরা। প্রতি লেনদেনের ৫ শতাংশ টাকা কমিশন হিসেবে দেওয়া হতো অ্যাকাউন্টের আসল মালিকদের।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, এই চক্রের কারবার চলে আন্তর্জাতিক স্তরে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সিমবক্স ও রাউটারগুলির ‘ময়নাতদন্ত’ করে দেড় হাজারের বেশি বিদেশি কলের সন্ধান পেয়েছে সাইবার ফরেন্সিক শাখা। লাওস, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে আসা এই কলগুলির আসল লোকেশন গোপন রাখার জন্য দেশীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে ‘রাউটিং’ করা হতো। এই পরিষেবার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক চক্রের থেকে মোটা টাকা কমিশন নিত ধৃতরা।
চিহ্নিত ৫০০-র বেশি মিউল অ্যাকাউন্ট এবং তার সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরগুলি ব্লক করার জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে লালবাজার। এই বিশাল নেটওয়ার্কের পাণ্ডাদের নাগাল পেতে ভিন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। খাস কলকাতায় বসে কীভাবে বিদেশের জালিয়াতি চক্রকে মদত দিচ্ছিল এই যুবকরা, তা ভেবেই কপালে ভাঁজ পড়েছে গোয়েন্দাদের।