নিউজ ডেস্ক: বাংলাজুড়ে ভোট ঘোষণার পর থেকেই তৎপরতা তুঙ্গে। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ পদে রদবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ভোটদান প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে কোনও নির্দিষ্ট বুথে যদি ভোটার কার্ড বা এপিক (EPIC) ছাড়া কমিশন স্বীকৃত অন্যান্য পরিচয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়া ভোটের হার ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তবে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন বা ‘রি-পোল’-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। কমিশনের এই নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
সাধারণত জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, ভোটার কার্ড না থাকলেও আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো ১২টি বিকল্প নথি দেখিয়ে ভোট দেওয়ার সংস্থান রয়েছে। স্বয়ং কমিশনই এই ১২টি নথিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এবার কমিশনের যুক্তি, রাজ্যের ১০০ শতাংশ ভোটারের কাছেই সচিত্র পরিচয়পত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও বুথে এক-চতুর্থাংশের বেশি ভোটার যদি বিকল্প পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন, তবে বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব বুথে এপিক ছাড়া ২৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে, সেই বুথগুলির ‘১৭ এ’ ফর্ম আলাদা একটি স্ট্রং রুমে রাখা হবে। ভোটগ্রহণের পরদিন রিটার্নিং অফিসার ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে সেই নথি যাচাই করা হবে। এরপরই চূড়ান্ত হবে পুনর্নির্বাচনের ভাগ্য। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত স্ববিরোধী; কারণ একদিকে কমিশনই বিকল্প নথিকে বৈধ বলছে, আবার অন্যদিকে সেই নথির অধিক ব্যবহারে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে পুনর্নির্বাচনের কথা বলছে। বিরোধীদের দাবি, বাংলাকে বিশেষ নজরে রেখেই এই ধরনের কড়া ও বেনজির ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।