নিউজ ডেস্ক: শীতের শেষে পরিযায়ী পাখিদের ঘরে ফেরার মুখে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল চোরাশিকারি চক্র। মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের পর এবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে হানা দিয়ে কয়েক কিলোমিটার লম্বা পাখি ধরার জাল ও বাইক উদ্ধার করল বনদপ্তর। সোমবার বিকেলে বনকর্মী, পুলিশ এবং বন্যপ্রাণপ্রেমী সংগঠন ‘হিউম্যান অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালায়েন্স লিগ’ (হিল)-এর সদস্যদের যৌথ অভিযানে চিনিসপুরের মাঠ থেকে এই বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের আঁচ পেয়েই বাইক ফেলে চম্পট দেয় তিন চোরাশিকারি।

পূর্ব বর্ধমান বন দপ্তরের কাটোয়া রেঞ্জ অফিস সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরেই চিনিশপুরের ফাঁকা মাঠে সন্ধ্যার দিকে ‘বগারি’ বা ‘ভরুই’ (Hume’s Short-toed Lark) পাখি ধরার জন্য জাল পাতা হচ্ছিল। বন্যপ্রাণপ্রেমী সংগঠন ‘হিল’-এর ফিল্ড মনিটরিং টিমের নজরে বিষয়টি আসতেই পুলিশ ও বনবিভাগকে খবর দেওয়া হয়। সোমবারের অভিযানে প্রায় এক কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের সূক্ষ্ম জাল উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাশিকারিদের ফেলে যাওয়া মোটরবাইকটি বর্তমানে কেতুগ্রাম থানার হেফাজতে রয়েছে।

‘হিল’-এর সহ-সম্পাদক সৌম্যদীপ মণ্ডল জানান, মূলত মাংসের লোভেই এই চড়াই জাতীয় পাখিদের নির্বিচারে শিকার করা হয়। তবে বিগত তিন বছরে নজরদারি বাড়ায় শিকারের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বীরভূমের রামপুরহাট এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এই আন্তঃজেলা পাখি পাচার চক্রের পাণ্ডা। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে জেলা জুড়ে তল্লাশি শুরু করেছে বনদপ্তর।

Share on Social Media