নিউজ ডেস্ক: ভরদুপুরে খাস কলকাতার গড়িয়ায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল এলাকা। গড়িয়া তেঁতুলতলার একটি বিউটি পার্লারের ভেতর ঢুকে মালকিনের গলার নলি কেটে খুন করার পর, সেই একই ক্ষুর দিয়ে নিজের গলা চিরে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। সোমবার দুপুরের এই নৃশংস ঘটনায় থমথমে নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়া এলাকা। মৃতদের নাম রূপবাণী দাস ওরফে পম্পা (৪৫) এবং পঙ্কজ নাথ (৪০)। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবক হরিয়ানার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গড়িয়া মহামায়াতলার বাসিন্দা রূপবাণীদেবীর সঙ্গে হরিয়ানার যুবক পঙ্কজের দীর্ঘদিনের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মাস ছয়েক আগে রূপবাণীদেবী হঠাৎই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান এবং তাঁর পরিবার থানায় ডায়েরি করে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই সময় তিনি পঙ্কজের সঙ্গে হরিয়ানায় ছিলেন। তবে মাস দেড়েক আগে তিনি আচমকাই গড়িয়ায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন এবং পার্লারের কাজ শুরু করেন। সোমবার রাতে পঙ্কজ হরিয়ানা থেকে কলকাতায় আসেন এবং মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সরাসরি রূপবাণীর পার্লারে ঢোকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পার্লারের ভেতর দু’জনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ঝগড়া চলাকালীন পঙ্কজ পকেটে থাকা একটি ক্ষুর বের করে অতর্কিতে রূপবাণীর গলার নলি কেটে দেন। প্রেমিকার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর নিজের গলাতেও ক্ষুর চালিয়ে দেন তিনি। পার্লারের এক মহিলা কর্মী চিৎকার করতে করতে বেরিয়ে এলে স্থানীয়রা ছুটে যান। রূপবাণীদেবীর স্বামী এসে দেখেন, স্ত্রী ও ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন। দ্রুত রূপবাণীকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পঙ্কজ ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং রূপবাণীর বাড়ি ফিরে আসা মেনে নিতে না পেরেই এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন পঙ্কজ। পুলিশ মৃত যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।