নিউজ ডেস্ক: হুগলির ভদ্রেশ্বরে দিল্লিরোডের ধারে একটি পরিত্যক্ত চাষের জমি থেকে উদ্ধার হল এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বস্তাবন্দি মৃতদেহ। বুধবার শ্বেতপুর এলাকায় একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে ওই দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। যেভাবে দেহটি লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছে, তাতে কোনও পেশাদার অপরাধী চক্র বা একাধিক ব্যক্তির হাত থাকার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ড্রামটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়া অবস্থায় দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় শ্বেতপুর ফাঁড়ির পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে বস্তার বাঁধন খুলতেই শিউরে ওঠেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ড্রামের ভেতরে উল্টো করে (মাথা নিচের দিকে রাখা) ভরা ছিল বছর ৩৫-৪০ বয়সের এক যুবকের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহটি পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টাও হয়েছিল; শরীরের অনেকটা অংশ ঝলসানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।

পুলিশের অনুমান, খুনের পর রক্তের দাগ আড়াল করতে এবং দেহটি সহজে পাচার করতে খুনিরা এই ড্রাম ও নাইলনের দড়ি ব্যবহার করেছিল। সম্ভবত অন্য কোথাও খুন করার পর রাতের অন্ধকারে গাড়ি করে এনে দেহটি দিল্লিরোডের ধারে ফেলে দিয়ে যাওয়া হয়েছে। চন্দননগর কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, “মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।” খুনের ধরণ দেখে পুলিশের ধারণা, খুনিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার ছক কষেছিল। এলাকায় এই নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

Share on Social Media