গড়িয়া পার্লার কাণ্ডে নয়া মোড়! খুনের আগে ধস্তাধস্তি? প্রেমিকের বুকেও একাধিক ক্ষতের চিহ্ন

নিউজ ডেস্ক: গড়িয়ার তেঁতুলতলায় বিউটি পার্লারের মালকিন রূপবাণী দাস ওরফে পম্পা খুনের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, মৃত ‘প্রেমিক’ পঙ্কজ নাথের বুকেও একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রূপবাণীকে ক্ষুর দিয়ে আক্রমণ করার সময় দু’জনের মধ্যে তীব্র ধস্তাধস্তি বা হাতাহাতি হয়েছিল, যার ফলেই পঙ্কজের শরীরে এই আঘাত লেগে থাকতে পারে।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই হরিয়ানার যুবক পঙ্কজের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল রূপবাণীদেবীর। সেই ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই মাস ছয়েক আগে ঘর ছেড়েছিলেন তিনি। যদিও পরিবারের দাবি, রূপবাণীকে ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে হরিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত পাচারের কোনও অকাট্য প্রমাণ পায়নি। ঘটনার দিন পার্লারের একটি বন্ধ ঘরের ভেতর দু’জনের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ অশান্তি চলেছিল। দরজা বন্ধ থাকায় বাইরের কেউ সেই সময় ভেতরে ঢুকতে পারেননি, ফলে ঝগড়ার প্রকৃত কারণ এখনও রহস্যে আবৃত।

মৃত পঙ্কজের পরিবারকে খবর দেওয়া হলেও বুধবার রাত পর্যন্ত হরিয়ানা থেকে কেউ কলকাতায় পৌঁছাননি। এদিকে, রূপবাণীদেবীর স্বামী বুধবার নরেন্দ্রপুর থানায় পঙ্কজ নাথের বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলে পরিষ্কার হবে পঙ্কজের বুকের ক্ষত কতটা গভীর ছিল এবং মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল। দীর্ঘদিনের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের এমন রক্তক্ষয়ী পরিণতিতে এখনও শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা।

Share on Social Media
  • Related Posts

    গড়িয়ায় বিউটি পার্লারে হাড়হিম করা কাণ্ড! প্রেমিকার গলা কেটে আত্মঘাতী যুবক, ত্রিকোণ প্রেমের টানাপড়েনে রক্তারক্তি

    নিউজ ডেস্ক: ভরদুপুরে খাস কলকাতার গড়িয়ায় এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল এলাকা। গড়িয়া তেঁতুলতলার একটি বিউটি পার্লারের ভেতর ঢুকে মালকিনের গলার নলি কেটে খুন করার পর, সেই একই ক্ষুর দিয়ে…

    Share on Social Media

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    আরও পড়ুন

    গড়িয়া পার্লার কাণ্ডে নয়া মোড়! খুনের আগে ধস্তাধস্তি? প্রেমিকের বুকেও একাধিক ক্ষতের চিহ্ন

    গড়িয়া পার্লার কাণ্ডে নয়া মোড়! খুনের আগে ধস্তাধস্তি? প্রেমিকের বুকেও একাধিক ক্ষতের চিহ্ন

    ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে এবার এনআইএ! বারুইপুর কোর্ট থেকে কেস ডায়েরি তলব বিচারভবনের

    ভাঙড় বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে এবার এনআইএ! বারুইপুর কোর্ট থেকে কেস ডায়েরি তলব বিচারভবনের

    ড্রামে ভরা বস্তাবন্দি গলাকাটা দেহ উদ্ধার! ভদ্রেশ্বরে দিল্লিরোডে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড, ঘাতক কি তবে পেশাদার খুনি?

    ড্রামে ভরা বস্তাবন্দি গলাকাটা দেহ উদ্ধার! ভদ্রেশ্বরে দিল্লিরোডে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড, ঘাতক কি তবে পেশাদার খুনি?

    নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রামনবমীর আগের দিন সাঁকরাইলে প্রকাশ্য রাস্তায় তলোয়ার, গদা হাতে মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচনি আচরণবিধি বলবৎ থাকায় এমন সশস্ত্র শোভাযাত্রা কীভাবে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার সঙ্গে মিছিলজুড়ে অহরহ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার স্লোগান এবং ওই মিছিলে বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী ঢালির উপস্থিতি গোটা ঘটনাকে বড়ো মাত্রা দিয়েছে। বুধবার বিকালে রাজগঞ্জ গঙ্গার ঘাট থেকে মানিকপুর পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার পথজুড়ে এই মিছিল হয়। অংশগ্রহণকারীদের একাংশের হাতে ছিল তলোয়ার ও গদা। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির পাশাপাশি বারবার শোনা যায় বিজেপির পক্ষে ভোটদানের স্লোগান। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মিছিলটি কার্যত শক্তি প্রদর্শনের চেহারা নেয়। মিছিল শুরুর সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সাঁকরাইলের বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী ঢালিকে। এই মিছিলের উদ্যোক্তা ‘বিবেকানন্দ সেবা সংগঠন’। সংগঠনের সভাপতি সহদেব থান্ডার বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ে মিছিল করলে অসুবিধা কোথায়? দেবদেবীর হাতেও তো অস্ত্র থাকে। আমরা তো অসুরের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। হাওড়া জেলার ঘরে ঘরে আতঙ্কবাদী রয়েছে। সব জেনেও প্রশাসন চুপ করে আছে। ২৬ বছর ধরে আমরা এই রীতি মেনেই সশস্ত্র মিছিল করে আসছি, তাতে সমস্যা কোথায়?’ মিছিল ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তবে আয়োজকদের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সাঁকরাইল কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি অমৃত বোস পালটা বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি চলাকালীন কীভাবে এই ধরনের অস্ত্র মিছিল হল, সেটাই বড়ো প্রশ্ন। এই মিছিলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছিল কি না, তা আমরা জানতে চাইব। সহদেববাবু নিজেও বিজেপির প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। টিকিট না পেয়ে এখন উস্কানিমূলক কথা বলছেন। আসলে বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বলেই এই ধরনের উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। মানুষ এর জবাব ভোটবাক্সে দেবেন।’ শিবপুরের কাজিপাড়ায় রামনবমীর মিছিল ঘিরে অতীতে অশান্তির জেরে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে কোনোভাবেই সশস্ত্র মিছিল করা যাবে না। সেই আবহে সাঁকরাইলে এই ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘সংশ্লিষ্ট সংগঠন নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়েই মিছিল করেছে।’ তবুও নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় সশস্ত্র মিছিল এবং তার সঙ্গে প্রকাশ্য রাজনৈতিক স্লোগানকে ঘিরে বিতর্ক আপাতত থামার কোনো লক্ষণ নেই।

    নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রামনবমীর আগের দিন সাঁকরাইলে প্রকাশ্য রাস্তায় তলোয়ার, গদা হাতে মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। নির্বাচনি আচরণবিধি বলবৎ থাকায় এমন সশস্ত্র শোভাযাত্রা কীভাবে হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার সঙ্গে মিছিলজুড়ে অহরহ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার স্লোগান এবং ওই মিছিলে বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী ঢালির উপস্থিতি গোটা ঘটনাকে বড়ো মাত্রা দিয়েছে। বুধবার বিকালে রাজগঞ্জ গঙ্গার ঘাট থেকে মানিকপুর পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার পথজুড়ে এই মিছিল হয়। অংশগ্রহণকারীদের একাংশের হাতে ছিল তলোয়ার ও গদা। ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির পাশাপাশি বারবার শোনা যায় বিজেপির পক্ষে ভোটদানের স্লোগান। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মিছিলটি কার্যত শক্তি প্রদর্শনের চেহারা নেয়। মিছিল শুরুর সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সাঁকরাইলের বিজেপি প্রার্থী বর্ণালী ঢালিকে। এই মিছিলের উদ্যোক্তা ‘বিবেকানন্দ সেবা সংগঠন’। সংগঠনের সভাপতি সহদেব থান্ডার বলেন, ‘অস্ত্র নিয়ে মিছিল করলে অসুবিধা কোথায়? দেবদেবীর হাতেও তো অস্ত্র থাকে। আমরা তো অসুরের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। হাওড়া জেলার ঘরে ঘরে আতঙ্কবাদী রয়েছে। সব জেনেও প্রশাসন চুপ করে আছে। ২৬ বছর ধরে আমরা এই রীতি মেনেই সশস্ত্র মিছিল করে আসছি, তাতে সমস্যা কোথায়?’ মিছিল ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ একে ধর্মীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তবে আয়োজকদের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সাঁকরাইল কেন্দ্রের তৃণমূল সভাপতি অমৃত বোস পালটা বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি চলাকালীন কীভাবে এই ধরনের অস্ত্র মিছিল হল, সেটাই বড়ো প্রশ্ন। এই মিছিলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছিল কি না, তা আমরা জানতে চাইব। সহদেববাবু নিজেও বিজেপির প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। টিকিট না পেয়ে এখন উস্কানিমূলক কথা বলছেন। আসলে বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বলেই এই ধরনের উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চলছে। মানুষ এর জবাব ভোটবাক্সে দেবেন।’ শিবপুরের কাজিপাড়ায় রামনবমীর মিছিল ঘিরে অতীতে অশান্তির জেরে হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে কোনোভাবেই সশস্ত্র মিছিল করা যাবে না। সেই আবহে সাঁকরাইলে এই ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘সংশ্লিষ্ট সংগঠন নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়েই মিছিল করেছে।’ তবুও নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় সশস্ত্র মিছিল এবং তার সঙ্গে প্রকাশ্য রাজনৈতিক স্লোগানকে ঘিরে বিতর্ক আপাতত থামার কোনো লক্ষণ নেই।

    মেয়ের বিচার পেতে ভোট ময়দানে আরজি করের ‘অভয়া’-র মা! পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    মেয়ের বিচার পেতে ভোট ময়দানে আরজি করের ‘অভয়া’-র মা! পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    বারাকপুর জুড়ে ভোটের কড়া প্রহরা! ১,১৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, নামছে ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    বারাকপুর জুড়ে ভোটের কড়া প্রহরা! ১,১৫০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, নামছে ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
    error: Content is protected !!

    AdBlock

    We rely on ads to maintain this site. Disabling your ad blocker helps us serve you better.