নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সাধারণত ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতির তদারকি বৈঠক হলেও, এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘পরীক্ষায়’ বসতে হল রাজ্যের জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP) এমনকি পুলিশ কমিশনারদেরও (CP)। অতীতে কোনও নির্বাচনেই আইএএস (IAS) বা আইপিএস (IPS) পদমর্যাদার শীর্ষ আমলাদের এভাবে প্রশ্নপত্রের মুখোমুখি হতে হয়নি বলে জানাচ্ছে প্রশাসনিক মহল। কমিশনের এই বেনজির সিদ্ধান্তে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে আমলা মহলে।
সূত্রের খবর, বুধবার বিকেল ৫টা থেকে নির্বাচন কমিশন পরিচালিত একটি অনলাইন পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে শুধু ডিএম বা এসপি নন, ডিআইজি, আইজি এবং এডিজি পদমর্যাদার দুঁদে অফিসারদেরও অংশ নিতে হয়েছে। মূলত ভোট পরিচালনার খুঁটিনাটি এবং আইনি নিয়মাবলী সম্পর্কে অফিসাররা কতটা ওয়াকিবহাল, তা যাচাই করতেই এই ‘সারপ্রাইজ টেস্ট’। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ছিল মোট ৩০টি মাল্টিপল চয়েস কোয়েশ্চেন (MCQ)। আদর্শ আচরণবিধি (MCC) কবে থেকে চালু হয়েছে বা স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে কখন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা উচিত— এই ধরণের ব্যবহারিক ও কৌশলগত প্রশ্নমালায় সাজানো ছিল এই অনলাইন টেস্ট।
তবে এই পরীক্ষায় পাশ করার জন্য ন্যূনতম কত নম্বর প্রয়োজন বা ভুল উত্তরের জন্য ‘নেগেটিভ মার্কিং’ ছিল কি না, তা স্পষ্ট করেনি কমিশন। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের এমন পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে আমলা মহলে যেমন বিস্ময় রয়েছে, তেমনি শুরু হয়েছে চাপা রসিকতাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র অফিসার হেসেই ফেললেন, “অনেকদিন পর মনে হচ্ছিল যেন আবার সেই কলেজের দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছি!” পর্যবেক্ষকদের মতে, অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এই নির্বাচনে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে কোনও ভুলভ্রান্তি বা খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন, আর সেই কারণেই এই অভিনব ‘হ্যান্ডস-অন’ যাচাইকরণ।