নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৭ সালে কোচবিহারের দিনহাটায় ঘটা এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মামলা গত ৩৭ বছর ধরে ঝুলে থাকায় নজিরবিহীন অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আইনি জটিলতা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির জেরে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত, এনবিএসটিসি-র (NBSTC) প্রাক্তন কর্মী অনিল চন্দ্র বর্মন অবসর নেওয়ার পরেও পেনশন-সহ যাবতীয় আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই ঘটনার নথিপত্র খতিয়ে দেখে বিচারপতি সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশাসনের ভুলের খেসারত কোনও নাগরিক বা অভিযুক্ত দিতে পারেন না।
মামলার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘসূত্রতা:
১৯৮৭ সালের ১৫ জুলাই দিনহাটার শালমারায় সিপিএম এবং প্রয়াত কমল গুহর সমাজতান্ত্রিক ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন খুন হন। এই মামলায় মোট ৮০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
-
১৯৯০: পুলিশ চার্জশিট জমা দেয়।
-
নিয়ম অনুযায়ী: ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে মামলার ফাইল সেশন কোর্টে পাঠানোর কথা ছিল বিচারের জন্য।
-
বিস্ময়কর তথ্য: দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সেই ফাইল সেশন কোর্টে পৌঁছায়নি।
২০১৯ সালে হাইকোর্ট একবার দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। কিছু অভিযুক্ত পলাতক থাকার অজুহাতে নিম্ন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া থমকে ছিল। আবেদনকারী অনিল চন্দ্র বর্মনের আইনজীবী সুমন স্নেহানবিস (মণ্ডল) আদালতে জানান, এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তাঁর মক্কেল অবসরকালীন কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না, যা তাঁর জীবনধারণের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ:
বিচারপতি সেনগুপ্ত এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন: ১. ৬ সপ্তাহের সময়সীমা: আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটকে এই মামলার সমস্ত নথি সেশন কোর্টে পাঠাতে হবে। ২. পৃথক বিচার: যদি কোনও অভিযুক্ত পলাতক থাকে, তবে তাঁর জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান অভিযুক্তদের নিয়ে পৃথকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ৩. নতুন আইনের উল্লেখ: আইনজীবীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী নথি পাঠানোর জন্য মাত্র ১৪ দিন সময় বরাদ্দ থাকে, সেখানে ৩৭ বছরের বিলম্ব অকল্পনীয়।
এই রায়ের ফলে কোচবিহারের ওই বহুচর্চিত রাজনৈতিক সংঘর্ষের মামলার বিচার প্রক্রিয়া অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে। একইসঙ্গে প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে আটকে থাকা পেনশনের জটও দ্রুত কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।