নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল কান্নায়। ৭০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে পাশ করার পুরস্কার হিসেবে এক পড়ুয়াকে হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC)। মধ্য কলকাতার ফুলবাগান এলাকার এক নামী বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে এই অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা। অভিযোগ, ওই ছাত্রকে কেবল স্কুল থেকে বের করে দেওয়াই নয়, তার ওপর চালানো হয়েছে চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে কড়া শোকজ করেছে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন।
অভিভাবকদের দাবি, স্কুলটির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থা এবং শিক্ষকদের দুর্ব্যবহার নিয়ে মুখ খোলাতেই তাঁদের সন্তানকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে তাঁরা জানিয়েছেন, ক্লাসে হাসাহাসি করার অপরাধে ওইটুকু বাচ্চাকে ১০ কেজি ওজনের স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে মাঠে দৌড়াতে বাধ্য করা হয়, যার ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়াও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং তুচ্ছ কারণে তিনবার শোকজ লেটার পাঠিয়ে নিয়মমাফিক টিসি ধরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
কমিশনের কড়া অবস্থান ও শোকজ:
বিষয়টি নিয়ে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই দম্পতি। কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিক্ষার অধিকার আইন (RTE) লঙ্ঘন করা হয়েছে। এভাবে কোনও শিশুকে টিসি নিতে বাধ্য করা যায় না।”
কমিশনের চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে:
-
সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার বা সাসপেন্ড করার প্রকৃত কারণ কী?
-
শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুল কোনও অভ্যন্তরীণ তদন্ত করেছে কি না?
-
ছাত্রটির নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় স্কুল কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
-
কেন তাকে ক্লাসে বসার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না?
নেপথ্যে কি ব্যবসায়িক স্বার্থ?
ছাত্রের বাবার অভিযোগ আরও চাঞ্চল্যকর। তাঁর দাবি, পুরোনো ছাত্রদের সরিয়ে নতুন ছাত্র ভর্তি করলে স্কুল কর্তৃপক্ষের লক্ষাধিক টাকা ‘ডোনেশন’ বা বাড়তি ফি আয়ের সুযোগ থাকে। সেই ব্যবসায়িক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই বেছে বেছে পুরোনো ছাত্রদের ওপর এই ধরণের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্কুলের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আগামী সোমবার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিনি বিস্তারিত জানাবেন। আপাতত সাত দিনের মধ্যে কমিশনকে জবাব দিতে হবে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষকে।